‘ক্যাপ্টেন’কে নিয়েই যতো দু:শ্চিন্তা মাসুদ রানার!
ঢাকা প্রতিনিধি ; বাংলাদেশের নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের মাসুদ রানা মাত্র এক বছর দুই মাস আগে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের গো-হাটি বাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা দিয়ে ‘অস্ট্রেলিয়ার ফিজিয়ান’ জাতের একটি গরু ক্রয় করেন।কেনার পরে গরুটির নাম দেন ‘ক্যাপ্টেন’।
গরুকে নিয়মিত খৈল-ভুসি মিশ্রিত পানির সঙ্গে আপেল, কমলা, মাল্টা ও মানিক কলা খাওয়াতে থাকেন মাসুদ রানা। সেই সঙ্গে তিনি গরুকে খুদের ভাত ও খড় কেটেও খাওয়ান নিয়মিত।তবে অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, মাত্র ১০ মাস পরই গত মার্চ মাসে গরুটি এমনভাবে বেড়ে ওঠে যে, স্থানীয় বাজারেই এর দাম উঠেছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু তখন এই দামে বিক্রি না করে পেশায় খাদ্য ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি খামারী মাসুদ রানা গরুটি আরও কয়েক মাস লালনপালন করতে চান।
এ অবস্থায় সেই আগের মতোই গরুটির যত্ন নিতে থাকেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যায় এবং পুষ্টিকর সব খাবার খাইয়ে মাত্র এক বছর দুই মাসেই গরুটি যেন দিন দিন ফুলতে শুরু করেছে। তবে গরুটির বর্তমান বয়স দুই বছর ছয় মাস।মাসুদ রানার স্ত্রী রেখা বেগম বলেন, গরুটি দেখার জন্য প্রায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আমাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। তবে এতে বিরক্ত মনে হয় না, ভালোই লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল, মিন্টু ও সামিউল জানান, সম্ভবত তাদের দুই জেলা জয়পুরহাট ও নওগাঁয় এত বড় গরু আর কারও নেই। মাসুদের গরু দেখতে এ গ্রামে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন।এতো কিছুর পরও গরুর মালিক মাসুদ রানার মনে শান্তি নেই। কারণ, বর্তমানে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনার আতঙ্কে বড় গরু কেনার মতো পাইকার পাচ্ছেন না তিনি।
অন্যদিকে বিশাল আকারের এই গরুটি নিয়ে স্থানীয় বাজারেও যেতে পারছেন না। কারণ, গরুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির একদমই কোনো বালাই নেই।মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, এক বছর দুই মাস আগে অনেকটা সখের বশেই গরুটি কিনেছিলাম। বগুড়ার এক খামারির পরামর্শে গরুকে পুষ্টিকর ফলমূল খাইয়েছি। যার ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে অতি দ্রুত স্বাস্থ্যবান হয়েছে।
কোরবানির বাজারে এই গরুর দাম ১০-১২ লাখ টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পাইকার পাচ্ছি না। অন্যদিকে স্থানীয় পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই না থাকায় ভয়ে সেখানেও তুলতে পারছি না। বর্তমানে আমি এই ক্যাপ্টেনকে নিয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এ ধরনের গরু নিয়ে কোনো খামারি যদি সমস্যায় পড়ে থাকেন, তাহলে তারা আমাদের কার্যালয়ে আসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ওই গরুর ছবি ও ভিডিও ক্লিপ দিয়ে আমরা অনলাইন মার্কেটে আপলোড দিচ্ছি। এতে খুব সহজেই তার গরুটি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

Post a Comment