জেনে নিন গুরুপূর্ণিমার দিন-ক্ষণ ও গুরুত্ব
হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মে গুরুপূর্ণিমা একটি বৈদিক প্রথা, যার মধ্য দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আর এই গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে বৈদিক যুগ থেকেই আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে চলে আসছে 'গুরুপূর্ণিমা'। সেইমতো, ইংরাজী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২০ সালে ৫ জুলাই গুরুপূর্ণিমা উদযাপিত হবে। তবে এবারের গুরুপূর্ণিমা একটু আলাদা। কারন এবার গুরুপূর্ণিমার দিনই হতে চলেছে চন্দ্রগ্রহণ। যদিও এই গ্রহণটি ভারতে দৃশ্যমান হবে না। গুরুপূর্ণিমা উদযাপিত হবে - ৫ জুলাই, রবিবার। পূর্ণিমা তিথি শুরু - ৪ জুলাই, বেলা ১১টা বেজে ৩৩ মিনিটে আর পূর্ণিমা তিথি সমাপ্ত - ৫ জুলাই, সকাল ১০টা বেজে ১৩ মিনিটে।
তবে আমাদের দেশে গ্রহণ শুরু হবে ৫ জুলাই সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে। গ্রহণের সর্বাধিক প্রভাব পড়বে সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে। ভারতীয় সময়ে গ্রহণ ছেড়ে যাবে বেলা ১১টা ২১ মিনিটে। এই চন্দ্রগ্রহণটি আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অংশ থেকে দেখা যাবে। ভারত থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না, কারণ যে সময়ে গ্রহণটি হবে ভারতে তখন দিন থাকবে। এটি বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, গুরুপূর্ণিমার দিন চন্দ্রগ্রহণ ভারতে খুব বেশি কার্যকর হবে না। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, ধনু রাশিতে এই চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। ধনু রাশিতে গুরু বৃহস্পতি এবং রাহু উপস্থিত আছেন। এই গ্রহণটি ধনু রাশির জাতকদের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধ্যান করা উচিত। ধনু ছাড়া কর্কট, সিংহ এবং কন্যা রাশির উপর এই গ্রহণের প্রভাব পড়তে পারে। এবার দেখে নেওয়া যাক গুরুপূর্ণিমার গুরুত্ব কি?
গুরুপূর্ণিমার গুরুত্ব
'গুরু' শব্দটি 'গু' এবং 'রু' এই দুটি সংস্কৃত শব্দ দ্বারা গঠিত। 'গু' শব্দের অর্থ 'অন্ধকার' বা 'অজ্ঞতা' এবং 'রু' শব্দের অর্থ 'অন্ধকার দূরীভূত করা'। 'গুরু' শব্দটি দ্বারা এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয় যিনি অন্ধকার দূরীভূত করেন, অর্থাৎ যিনি অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যান তিনিই গুরু। গুরু আমাদের মনের সব সংশয়, সন্দেহ, অন্ধকার দূর করেন এবং নতুন পথের দিশা দেখান। ভারতে গুরুদের ঈশ্বরের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। একজন গুরুই পারে কোনও ব্যক্তিকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে। প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশে গুরুদের সম্মানজনক স্থান দেওয়া হয়েছে। গুরুপূর্ণিমার দিন তাঁদের পূজা করলে বিশেষ আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়।
Post a Comment