ফের রক্তাক্ত হলো কুলতলী, খুন পাল্টা খুন
রক্তাক্ত হলো আবার কুলতলী। খুন পাল্টা খুনের প্রতিবাদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরো পাঁচজন ভর্তি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে কুলতলী মইপিট এলাকায়।
নিহতরা হলেন অশ্বিনী মান্না তৃণমূল কর্মী বয়স ৪৫ এবং সুধাংশু জানা এসিআই কর্মী বয়স ৬৫। এসএসসি কর্মী সুধাংশু জানাকে তৃণমূল কর্মীরা মেরে গাছে ঝুলিয়ে দেয় সকাল ন'টা নাগাদ। অভিযোগ উঠেছে যুব তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে তৃণমূল কর্মী অশ্বিনী মান্নাকে গণপিটুনি দিয়ে মারা হয়েছে এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল রাতে। অভিযোগ অশ্বিনী মান্না গতকাল রাতে দলবল নিয়ে চড়াও হয় ওই এলাকার কিছু এসইউসিআই সমর্থকদের বাড়িতে। প্রায় ১০ টি বাড়িতে লুটপাট ভাঙচুর চালায়। এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় যে ঘটনায় এখনো পাঁচজন এসইউসিআই কর্মী বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপর এলাকার মানুষজন প্রতিরোধ করে এবং গণপিটুনি দিয়ে খুন করে অশ্বিনী মান্নাকে।
তার পরের দিন সকালে সুধাংশু জানা এসইউসিআই সদস্য জেলা কমিটির তখন তাকে বাড়ি থেকে বের করে মেরে বাড়ির সামনে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। স্ত্রী গীতা জানা এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য তার সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের যুব নেতা গণেশ মণ্ডল এমনটাই অভিযোগ এসইউসিআই এর প্রাক্তন বিধায়ক জয় কৃষ্ণ হালদার এর।
এ বিষয়ে এস ইউ সি আই এর জয়নগর কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মন্ডল বলেন, ওই এলাকার পঞ্চায়েতের দখল কার উপর থাকবে। আমফান দুর্নীতি নিয়ে যাতে আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকরা এলাকায় মুখ খুলতে না পারে তার জন্য এই খুনোখুনি করেছে তৃণমূল। এসেছিস আরও দাবি অশ্বিনী মান্না তার দলবল নিয়ে গতকাল রাতে যখন এলাকায় ঢুকে লুটপাট ও ভাঙচুর চালাচ্ছিল এলাকার লোকজন তখন ভাবে ডাকাত পড়েছে গ্রামে। মহিলারা ডাকাত ভেবেই তৃণমূল কর্মী অশ্বিনী মান্নাকে গণপিটুনি দিয়ে খুন করেছে।
অশ্বিনী মান্না খুন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তৃণমূলের লোকজন চড়াও হয় সুধংশু জানার বাড়িতে। সুধাংশু তখন বাড়িতেই ছিলেন। সকাল বেলা শ্বশুর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে বের করে পিটিয়ে বাড়ির সামনে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এমনটাই অভিযোগ এসইউসিআই এর।
অন্যদিকে, তৃণমূল দাবি করেছে এই ঘটনাটা পুরো পূর্বপরিকল্পিত। মইপিট পঞ্চায়েতের দখল নিতে এসইউসিআই এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূলের ব্লক যুব সভাপতি গণেশ মণ্ডল বলেন,অশ্বিনী মান্না এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন সে খুন হতেই এলাকার মানুষের জনরোষ গিয়ে পড়ে সুধাংশু জানার বাড়িতে এলাকার মানুষকে পিটিয়ে খুন করেছে এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই।
এই ঘটনায় তৃণমূলের কর্মী ভোলানাথ গিরি কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেছে গ্রামবাসীরা। তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ভোলানাথ গিরি। এই ঘটনার পর ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়। ইতিমধ্যেই উভয়পক্ষ মইপিট কোস্টাল থানাতে অভিযোগ দায়ের করেছে।

Post a Comment