বিধায়ক ইদ্রিশ আলির তত্ত্বাবধানে উলুবেড়িয়ায় পালিত হলো শহীদ দিবস
একাধিক অভিনব কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে ২১ জুলাই পালন করলেন উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক ইদ্রিশ আলি। করোনা অতিমারির তাণ্ডবে এবছর রাজ্য জুড়ে ২১ জুলাই পালিত হয় একদম অন্যরকমভাবে। সেই কর্মসূচী থেকে বাদ যায়নি উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা।
সরকারি স্বাস্থবিধির নিয়ম মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিধায়ক ইদ্রিশ আলির তত্ত্বাবধানে অনুষ্টানগুলি পালিত হয় উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দে ।কোথাও গীতা পাঠ, কোথাও কোরান পাঠ করে অনুষ্টানের সূচনা করা হয় আবার কোথাওবা বৃক্ষ রোপন, গুনীজনদের সম্বধ'না ইত্যাদি অনুষ্টানও হয় একাধিক জায়গায় । এইদিন বিধায়ক ইদ্রিশ আলি বাউরিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাইন নামে এক মেধাবী ছাত্রের হাতে আটষট্টি হাজার (৬৮ হাজার ) টাকা নগদ তুলে দেন।
এই অসহায় ছাত্রটি মুম্বইতে কেমিস্ট্রি অনাস' নিয়ে এম. এস. সি.পড়তে চায়। কিন্তু আর্থিক অনটনে পিছুপা হতে হচ্ছে এই মেধাবি ছাত্রের। এই কথা বিধায়ক ইদ্রিশ আলির কানে আসামাত্র সমস্ত পড়ার খরচ বহন করবেন বলে কথা দেন বিধায়ক । এর আগে দশ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন এবং আজকে আটষট্টি হাজার টাকা দেওয়া হল সেই ছাত্রের হাতে।
উল্লেখ থাকে এদিন বিমল দাশ সহ আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তিকে বিধায়ক আর্থিক সাহায্য করেন বিধায়ক ইদ্রিস আলি ।উলুবেড়িয়া পৌরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গাতলাতে এদিন শহীদ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালিত হয়। তার সূচনা করেন উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ইদ্রিশ আলি। এর পর পাঁচলার এক আশ্রমের মহারাজের হাতে তিনি কিছু ত্রিপল তুলে দেন।
বাউরিয়া থানার 8 নম্বর ওয়ার্ডের মা মাটি মানুষের দল তৃনমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক ইদ্রিশ আলি ।দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি বেনুকুমার সেন ।বিধায়ক ইদ্রিশ আলি,কেন্দ্রীয় সভাপতি বেনুকুমার সেন ছাড়াও শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন পানু সামন্ত, সঞ্জয় মাইতি প্রমুখ।
তারপর উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সরকারী নিয়ম মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাইশ নম্বর ওয়ার্ডে আকর্ষনী'য় এক অনুষ্টান হয় ।জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নাসিম আহমেদ।দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ইদ্রিশ আলি ।
শহীদ বেদীতে মাল্যদানের পর ২১ জুলাই এর তাৎপর্য ব্যাখা করে এবং ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ত্যাগ, দেশপ্রেম ও বাংলার মানুষকে উন্নয়নের শীর্ষে রাখার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক ইদ্রিশ আলি, নাসিম আমেদ, কাউন্সিলার শাশ্বতী সাঁতরা, সেখ শাহনওয়াজ, সেখ মীরা প্রমুখ ব্যক্তিরা।
বিধায়ক ইদ্রিশ আলি তাঁর ভাষণে বলেন,১৯৯৩ সালে ২১জুলাই বাংলার রুপকার তৎকালীন সব'ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জি "নো আইডেন্টি কাড', নো ভোট " এর ডাক দিয়ে আন্দোলন করেন ।কলকাতার রাস্তা সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ।তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুলিশ বেআইনীভাবে গুলি চালিয়ে তের জন যুব কংগ্রেসের কর্মীকে হত্যা করে ।
বেআইনীভাবে বহু কংগ্রেস /যুব কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়।মমতা ব্যানার্জি এই দিনটিকে শহীদ তপ'ন দিবস হিসেবে পালন করেন ।প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ মানুষ ধর্মতলাতে এই শহীদ স্মরণে উপস্থিত হয়।কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে বুথে দিনটি পালন করার আদেশ দেন ।বিধায়ক ইদ্রিশ আলি করোনার ব্যাপারে সকলকে মাস্ক এবং সানি টাইজারস' ব্যবহার করার অনুরোধ জানান।কারন করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে এটা খুব জরুরী ।
উল্লেখ থাকে গত ১৫জুলাই বুধবার বিধায়ক ইদ্রিশ আলি দশ হাজার মাস্ক উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন ।বিধায়ক ইদ্রিশ আলি বলেন, কন্যাশ্রী' , যুবশ্রী থেকে শুরু করে প্রায় আশিটি প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উন্নয়ন করে চলেছেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ।বিজেপি সহ বিরোধীরা কোন না কোন প্রকল্পে উপকৃত হয়েছে, রেশন থেকে সাইকেল পয'ন্ত নিয়েছে।
কিন্তু সেই বিজেপি নিলজ্জে'র মতো তূণমুল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা প্রচার করে বেড়াচ্ছে।২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি সহ বিরোধীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ।রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে মমতা ব্যানার্জি আবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন।

Post a Comment