লাল নদী আর সাতশো পাহাড়ের দেশের ভ্রমন কাহিনি
দু’দিনের ছুটি নিয়েই ঘুরে আসা যায় গভীর জঙ্গল থেকেয় সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ শোভা— পাহাড়, ঝরনা, নদী। কলকাতা থেকে রেল পথে মাত্র সাত ঘণ্টা। প্রথম পাতা ভ্রমণ $cid উইকএন্ড লাল জলের নদী আর সাতশো পাহাড়ে ঘেরা সারান্ডার জঙ্গলে সপ্তাহান্তের কাহিনি স্বাতী সেন | ১০ জানুয়ারি, ২০১৯, ০৮:৪৩:০২ | শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১৩:৩২:৩০ শহুরে জীবন থেকে দু’দিনের ছুটি নিয়েই ঘুরে আসা যায় গভীর জঙ্গল থেকেয় সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ শোভা— পাহাড়, ঝরনা, নদী। কলকাতা থেকে রেল পথে মাত্র সাত ঘণ্টা। Karo river of Saranda Forest জঙ্গলের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে রক্তাভ কারো নদী।
3.3K সাতশোটা পাহাড়! সত্যিই কি এতগুলো পাহাড় রয়েছে ওখানে? যখন থেকে সারান্ডায় যাওয়ার আলোচনা শুরু হয়, তখন থেকেই এই প্রশ্নটাই মাথায় ঘুরছিল। গিয়ে দেখলাম, তা নয়। তার থেকে হয়তো কিছু বেশিই হবে সংখ্যাটা। যে দিকে তাকাই, শুধুই পাহাড়। তাদের উচ্চতা কম, ঘন জঙ্গলে ঢাকা। এই বিস্তীর্ণ পাহাড়শ্রেণি ও জঙ্গলের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে খরস্রোতা রক্তাভ কারো নদী। যা সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা বিভিন্ন জলপ্রপাত। ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলা থেকে শুরু করে ওড়িশার কেওনঝাড় জেলা পর্যন্ত প্রায় ৮২০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত লৌহ আকরিকে সমৃদ্ধ লাল পাথুরে জমি, ঘন জঙ্গল, পাহাড় রাশি ও খরস্রোতা নদী মেশানো অঞ্চলটিই হল সারান্ডা ফরেস্ট, যা সাতশো পাহাড়ের দেশ এবং এশিয়ার বৃহত্তম শাল গাছের জঙ্গল।
এই জঙ্গল এক সময় মাওবাদীদের দখলে ছিল। এখন আর সে সমস্যা নেই। জঙ্গলে পশুপাখি অনেকই রয়েছে যেমন ভাল্লুক, লেপার্ড, হাতি। কিন্তু জঙ্গলের পরিধি ও ঘনত্ব খুব বেশি হওয়ায় তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ খুবই কম। আমরা যে রিসর্টে ছিলাম সেই রিসর্টটি বেশ খোলামেলা, পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কারো নদী। নদীর ওপারেই ঘন জঙ্গল। নদীর অনর্গল বয়ে চলার শব্দ মন ভাল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সারান্ডায় ঘুরতে যাওয়ার আদর্শ সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। পাহাড়ি জায়গা বলে গরমকালে প্রচণ্ড গরম পড়ে এবং বর্ষাকালে এই কারো নদী হয়ে ওঠে ভয়ংকর। অন্য দিকে, শীতের রাতে জমিয়ে ঠান্ডা লাগে। তাপমাত্রা থাকে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি। আগুনের সামনে বসে বার্বিকিউ খেতে খেতে সেই ঠান্ডাটা বেশ উপভোগ্য।
Post a Comment