অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যু, তদন্ত চলাকালে দেশ ছাড়তে পারবেন না স্ত্রী!
ঢাকা প্রতিনিধি : অগ্নিদগ্ধ হয়ে জ্বলে-পুড়ে একমাত্র ছেলে পিয়াসের পর ঠিক মাত্র ছয় মাস পর একইভাবে দৈনিক যুগান্তরের অপরাধ বিভাগের প্রধান বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুরও মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন চারটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
সাংবাদিক নান্নু পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে, বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলার পর নান্নুর স্ত্রী যেন দেশ ছাড়তে না পারেন সে জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নান্নুর রহস্যজনক এই মৃত্যুর পর ডিএমপি’র গুলশান বিভাগ পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওই কমিটির এক সদস্য জানান, আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পেয়েছি যে, নান্নুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই অভিযোগ যেন সুষ্ঠু তদন্ত করা হয় সে তাগিদ বা অনুরোধও করা হচ্ছে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, নান্নুর স্ত্রী পল্লবীর একাধিক দেশ ভ্রমণে অভিজ্ঞতা ও ভিসা রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিনি যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দেওয়া হবে।
গুলশান বিভাগ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যুর নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটনে গুলশান বিভাগ পুলিশ ছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং সিআইডি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। প্রত্যেকটি তদন্ত কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করছে গুলশান পুলিশ।
ইতিমধ্যে সাংবাদিক নান্নুর বাড়ির ভিডিও ফুটেজ জব্দসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের পর স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের তদন্ত কমিটি।এ ব্যাপারে পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান ও ডিএমপি’র গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে গঠিত প্রত্যেকটি তদন্ত কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে গুলশান বিভাগ পুলিশ।
গুলশান বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি ফৌজদারি কোন অপরাধ ঘটেছিল কিনা সেটি তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস আগুনের কারণ অনুসন্ধান করছে তিতাস গ্যাসের কারণে আগুনের ঘটনা ঘটেছিল কিনা সেটা তদন্ত করছে সিআইডি এক্সপার্ট অপিনিয়ন জানাবে। সব মিলে আমরা একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করব আশা করছি খুব শিগগিরই সেটা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন আমরা অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না আমরা সব তথ্যই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করব আর তখনই স্পষ্ট হবে সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যুর কারণ।
উল্লেখ্য, আফতাবনগরের জহিরুল ইসলাম সিটির ৩ নম্বর সড়কের বি ব্লকের ৪৪/৪৬ নম্বর বাসার দশম তলায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন সাংবাদিক নান্নু। গত শুক্রবার(১২ জুন) ভোর পৌনে চারটার দিকে সেখানে রহস্যজনক আগুনে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
সাংবাদিক নান্নুকে গুরুতর অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী শাহীনা হোসেন পল্লবী বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি অপমৃত্যু’র মামলা দায়ের করেন।
এর আগে মাত্র ছয় মাস আগে গত ২ জানুয়ারি ওই একই বাসায় বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাদের একমাত্র সন্তান সঙ্গীত পরিচালক স্বপ্নীল আহমেদ পিয়াস (২৪) প্রাণ হারান। সে সময় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু।

Post a Comment