নিলামে উঠছে মাশরাফির দেড় যুগের ‘সুখ-দুঃখের সাথী’ - The News Lion

নিলামে উঠছে মাশরাফির দেড় যুগের ‘সুখ-দুঃখের সাথী’



ঢাকা প্রতিনিধি:         প্রায় ১৮ বছর আগে থেকে বয়ে বেড়াচ্ছেন। বলা যায় অনেক সুখ-দুঃখের সাথী; বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে জন্ম দেওয়া অনেক ঘটনার সাক্ষী। বলা হচ্ছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে ব্যবহৃত ব্রেসলেটটির কথা।

স্টিলের একটি ব্রেসলেট, তাতে ইংরেজি অক্ষরে খোদাই করে লেখা ‘মাশরাফি।’ এটিই প্রায় ১৮ বছর আগে এক বন্ধুর মামাকে দিয়ে বানিয়ে নিয়েছিলেন মাশরাফি। এরপর থেকে তিনি সেটি হাত থেকে খুলেছেন কম সময়ই। পৃথিবীর যেখানেই খেলতে গেছেন, বয়ে বেড়িয়েছেন হাতে। মাশরাফির নিজের ভাষায়, এটি তার ‘সব সময়ের সুখ-দুঃখের সাথী।’







নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসগুলোর একটি সেই ব্রেসলেট নিলামে তুলেছেন মাশরাফি। উদ্দেশ্য, বড় পরিসরে ও দীর্ঘ সময় ধরে করোনাভাইরাস দুর্গতদের সহায়তা করা।

ফেইসবুকে ‘Auction 4 Action’ পেজ-এ চলছে এই নিলাম, শেষ হবে রবিবার রাত সাড়ে ১১টায়। সাকিব আল হাসানের ব্যাটসহ সম্প্রতি আরও বেশকিছু নিলাম হয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে। মাশরাফির ব্রেসলেটের ভিত্তি মূল্য রাখা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।





এই ব্রেসলেট তার হৃদয়ের কত কাছের, তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সফলতম এই ওয়ানডে অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি খুলেছি হাত থেকে। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে। আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।”





মাশরাফি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের স্বাক্ষী এই ব্রেসলেট। যত লড়াই করেছি, মাঠের ভেতরে-বাইরে যত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সব কিছুর স্বাক্ষী এটি। আমার ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সাথী। আমার অনেক আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে এটিতে, এই ব্রেসলেটকে আসলে ব্যাখ্যা করা আমার জন্য খুব কঠিন।’





বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে বোলার নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যও। করোনাভাইরাস দুর্যোগের শুরু থেকেই নিজ এলাকায় ব্যাপক আকারে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী সব পদক্ষেপ নিয়ে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন দেশজুড়ে। এছাড়াও ক্রিকেটারদের তহবিলে সহায়তা, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট আরও অনেক জায়গায়ও করেছেন সহায়তা। নিজ এলাকা থেকে শুরু করে ক্রিকেট আঙিনা, এই সহায়তা কার্যক্রমের বেশির ভাগই মাশরাফি করেছেন নিজের উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, সেটি ভেবেই নিজের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গীকে বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি।





ভালোবাসার এই জিনিসটি হাতছাড়া করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার সাধ্যমত করার চেষ্টা করেছি। এখনও করছি। কিন্তু সেটিরও তো শেষ আছে, আমার তো অঢেল টাকা নেই। যতটুকু বুঝতে পারছি, এই সঙ্কট অনেক দিন থাকবে। আমার তো মনে হয়, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস চলছে এখন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মনে হয় গোটা বিশ্ব এত বড় সঙ্কটে পড়েনি। আমাদের দেশের বাস্তবতা আরও কঠিন। প্রায় দুই মাস ধরে অনেক কিছু স্থবির হয়ে আছে। নিম্ন আয়ের মানুষ, এমনকি অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারও কষ্টে আছে। আমার তাই মনে হয়েছে, আরও অনেক বড় পরিসরে সহায়তা করতে হবে সামনে এবং অনেক দিন ধরে করতে হবে। কেউই জানি না, কতদিন পরে আমরা মুক্তি পাব। আর করোনাভাইরাস চলে গেলেও কিন্তু আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে অনেক। এজন্য মনে হয়েছে, আমার সবচেয়ে কাছের কিছু নিলামে তুলে যদি তহবিল সংগ্রহ করা যায়, তাহলে আরও বেশি মানুষকে বেশি দিন ধরে সহায়তা করতে পারব।’





নিলাম আয়োজনকারী সংস্থার অন্যতম কর্মকতা নাফিজ আহমেদ মোমেন জানালেন, এর মধ্যেই তুমুল আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে মাশরাফির ব্রেসলেট ঘিরে। অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে আমাদের। মাশরাফির আবেদন বাংলাদেশের ক্রিকেটে অতুলনীয়। তার সবচেয়ে আবেগের জিনিস যখন নিলামে উঠছে, আগ্রহ তাই অনেক। এই ব্রেসলেটকে তো আসলে টাকার অঙ্কে বিচার করা যাবে না। তারপরও উদ্দেশ্য মহৎ, যত বেশি মূল্য পাওয়া যাবে, তত বেশি মানুষ সহায়তা পাবে। আমরা আশা করছি, মাশরাফির আবেগকে সম্মান করার মত কিছু আমরা করতে পারব।’

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.