এবার ঈদ এলো এক প্রেক্ষাপটে - The News Lion

এবার ঈদ এলো এক প্রেক্ষাপটে



.
সেতু নিউজঃ     সৌদি আরবসহ বিশ্বের অনেক দেশে আজ বুধবার মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলো। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ঈদ উদযাপন করা হবে।
সাধারণত ঈদের চাঁদ দেখে মহাখুশিতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করে থাকেন। কেউ কেউ ঈদের কার্ড বিনিময় করেন। নানা ধরণের খাবার খেয়ে থাকে। এক মাস সিয়াম সাধনা করার পর এই দিনটিকে মহা আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে সারা পৃথিবীর মুসলিম সমাজ। রোজা শেষে এ দিনের আনন্দ একে অপরের মধ্যে উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়।





সবাই মিলে ঈদ উদযাপন চিরায়ত ঐতিহ্য। কিন্তু এবার সবকিছুই ব্যতিক্রম। এবার ঈদ এলো এক প্রেক্ষাপটে। মহামারি করোনাভাইরাস থমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। থমকে গেছে সামাজিক বন্ধনও। আর তাই ঈদকে সেই ঐতিহ্যরক্ষা করে উৎসব মুখরভাবে পালন করতে পারছে না মুসলিম সম্প্রদায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গেছে, অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে পৃথিবীতে, কিন্তু অতীতের কোনো লেখালেখিতে বা সাহিত্যে বর্তমান পরিস্থিতির মতো কিছু পাওয়া যায় না। যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়েও মুসলমানরা রমজানের সময় একসাথে হয়ে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছে। এবাবের মতো এমন পরিস্থতি অতীতে কখনো দেখেনি পৃথিবী।





এবারের রমজান এবং ঈদে মুসলমানদের জন্য একদম ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হলো। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সাথে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে হলো। সন্দেহ নেই এবারের রমাজন মাস হয়তো মুসলিম ইতিহাসে একেবারে ভিন্ন, ব্যাতিক্রমী ঘটনা হিসাবে জায়গা পাবে।
ধর্মীয় আচার পালনে দিক-নির্দেশনার জন্য মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যে দেশটির দিকে তাকিয়ে থাকে, সেই সৌদি আরব আজ বুধবার ঈদ উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ কিছু শিথিল করেছে।





করোনভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন চললেও সৌদি বাদশাহ মক্কা ও মদিনায় মুসলমানদের দুই পবিত্রতম মসজিদে সীমতি আকারে তারাবি নামাজের অনুমতি দিয়েছে।এছাড়া, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে জারি করা কারফিউ সকাল ৯টা থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত কিছুটা শিথিল থাকবে। তবে বিশ্বের বহু মুসলিশ দেশে সেই ছাড়টুকুও দেওয়া হচ্ছে না।




মিশরে রমজান মাসে জামাতে নামাজসহ যে কোন ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। ইরানে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই রমজান মাসে জনগণকে জামাতে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেরুজালেমে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ আল আকসাতেও রমজানে নামাজ হয়নি শুধু দিনে পাঁচবার আজান হয়েছে।




মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সিঙ্গাপুর, ব্রুনেইতেও মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়ার ওপর বিধিনিষেধ ছিল।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই মসজিদে গিয়ে রমজান মাসে নামাজ পড়া বন্ধ ছিল। ব্রিটেনে মসজিদগুলো রোজার সময় নামাজ, দোয়া-দরুদ, খুতবা ভিডিওতে লাইভ-স্ট্রিমিং করেছিল।
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন রমজান উপলেক্ষে জন্য যে পরামর্শ জারি করে তাতে বলা হয়- জামাতে নামাজ হবে না, মসজিদের গিয়ে তারাবি হবে না, এবং কোনো ইফতার পার্টি করা যাবে না।





পাকিস্তান কিছুটা ব্যাতিক্রমী অবস্থান নিয়েছিল। সেদেশে রোজার সময় তারাবি নামাজ অনুমোদন করা হয়েছিল, তবে শর্ত দেওয়া হয়েছিল নামাজিদের একজনের সাথে আরেকজনের ছয় ফুট ব্যবধান রাখতে হবে। হয়েও ছিল তাই।
বাংলাদেশেও রমজান মাসে মসজিদ বন্ধ না করা হলেও সর্বোচ্চ ১০ জন মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবে বলে নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল সরকার। ঈদের জামাত পালনেও দেয়া হয় সরকারী গাইডলাইন। গাইডলাইন মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তবেই যাওয়া যাবে মসজিদে, পড়া যাবে ঈদের নামাজ।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.