বেদনাবিধুর বাস্তবতা, সন্তানের শেষ আদর বাবাকে
করোনা সারাবিশ্বকে বদলে দিয়েছে। আমাদের চোখের সামনে এনে দিয়েছে অনেক মর্মান্তিক দৃশ্য, মর্মান্তিক গল্প, বেদনাময় অধ্যায়। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা যাওয়া বাবাকে অনেকটা লুকিয়েই শেষ বিদায় দিতে এসেছিল তার সাত বছরের একমাত্র সন্তান। প্রাণহীন বাবার কপালে আর দু’গালে শেষবারের মতো আদরের পরশ বুলিয়ে দিয়ে যায় ছেলে।
চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের এমনই এক হৃদয়বিদারক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে বেদনাবিধুর বাস্তবতা নিয়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। ভিডিওটির নিচে ক্যাপশনে চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া লিখেন, চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে বেদনাবিধুর বাস্তবতা: সন্তানের শেষ আদর বাবাকে- গত ২০ মে ৪০ বছরের রোগী জীবনের শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা নিতে এসেছিল আমাদের চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে।
রোগীকে প্রথম দেখায় বুঝতে পেরেছিলাম জীবনের সময় বেশি নেই। তবু চেষ্টা করেছিলাম আমাদের সামর্থ্য নিয়ে রোগীকে বাঁচাতে। রোগীর অভিভাবকও বুঝতে পেরেছিল রোগীর পরিণতি। করোনা টেস্ট হয়নি কিন্তু সকল লক্ষণ করোনাভাইরাস জনিত। অবশেষে মারাও গেলেন ১৩.৩০ ঘণ্টা পর। রোগীর অভিভাবক হিসেবে সাথে ছিলেন তার স্ত্রী।
সাধারণত করোনাজনিত লক্ষণে মারা গেলে সিভিল সার্জন অফিসে জানাতে হয়। পরে সিভিল সার্জন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্রুত দাফন করা হয়। কিন্তু আত্মীয় স্বজন কেউ মৃত ব্যক্তিকে দেখার সুযোগ হয় না। আমি মৃত রোগীর অভিভাবক স্ত্রীকে বললাম আপনাদের সন্তানকে তার বাবাকে দেখবে না? উত্তরে বললো বাড়িতে কেউ নেই আর কীভাবে আসবে।
পরে সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেলে সন্তান বাবাকে দেখতে পারবে না। আমি বললাম আপনি আমাদের হাসপাতালের গাড়ি নিয়ে আপনাদের সন্তানকে নিয়ে আসুন । তাই হলো।
Post a Comment