বেলুড়ের লালবাবা কলেজে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ
দি নিউজ লায়নঃ স্নাতক স্তরে চতুর্থ সেমিস্টারের রেজাল্ট অসম্পূর্ণ আসায় স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হতে না পেরে বেলুড়ের লালবাবা কলেজে সোমবার বিক্ষোভ হয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েনে বেলুড় লালবাবা কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত। স্নাতক স্তরে চতুর্থ সেমিস্টারের রেজাল্ট অসম্পূর্ণ আসায় স্নাতকোত্তর স্তরে তারা ভর্তির হতে পারছেন না বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে সোমবার কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রীরা।
তাদের বক্তব্য, জানুয়ারি মাসে চতুর্থ সেমিস্টারের রেজাল্ট বের হয়। কিন্তু দেখা যায় পঞ্চাশ জন ছাত্রছাত্রীর রেজাল্ট অসম্পূর্ণ। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যে আভ্যন্তরীন নম্বর দেবার কথা সেটা ফাঁকা রয়েছে রেজাল্টে। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। এদিকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এম এ তে ভর্তির জন্য ফর্ম ফিলাপের শেষ দিন।কিন্তু রেজাল্ট অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফলে চূড়ান্তভাবে মানসিক বিপর্যস্ত তারা। শিক্ষামন্ত্রীকে লিখিতভাবে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। কলেজের এক ছাত্রী বিনিতা মুখোপাধ্যায় জানান, তাদের ইংরাজী ডিপার্টমেন্টের বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর রেজাল্টের চতুর্থ সেমিস্টার অসম্পূর্ণ রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন সমস্যা আছে মার্কশিটে। তাঁর অভিযোগ, ডিপার্টমেন্টের গাফিলতির জন্য প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে ভুগতে হচ্ছে। আজ রেজাল্ট বেরোনোর দিন। কিন্তু অসম্পূর্ণ রেজাল্ট বলে তা দেওয়া হয়নি। জানুয়ারি মাস থেকে অসম্পূর্ণ রেজাল্টের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে মার্কশিটের নম্বর দেওয়া হয়ে যাবে। জুন মাসেও বলা হচ্ছে অপেক্ষা করতে। ১৬ আগস্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় এখন কিছু করা যাবেনা। বিশ্ববিদ্যালয় যা বলবে তা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে এটা কলেজের সমস্যা। মার্কশিট না পেলে তাদের কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে। রোহিত ঘোষ নামে এক ছাত্র জানান, জানুয়ারি মাসে চতুর্থ সেমিস্টারে অসম্পূর্ণ রেজাল্ট বেরিয়েছিল। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেখান থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় ঠিক হয়ে যাবে। পাঁচ মাস পর কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেখানে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের কিছু বলা হয়নি। তারা বলেছে এটা কলেজের সমস্যা।
এদিকে কলেজ বলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা। এই রেজাল্ট সম্পূর্ণ না হলে তাদের স্নাতকোত্তরে পড়া তো হবেই না পাশাপাশি স্নাতক কোর্স সম্পূর্ণ হবে না। তাদের এডুকেশনাল কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে। জানুয়ারি মাস থেকে তারা মানসিকভাবে যন্ত্রণায় রয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ এই সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান এখানে তাদের গাফিলতি নেই। তারা নম্বর পাঠিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো আবার নতুন করে পাঠানো হচ্ছে।সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Post a Comment