গ্রামীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মুখী শিক্ষার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে উত্তরবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের - The News Lion

গ্রামীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মুখী শিক্ষার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে উত্তরবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের

 


দি নিউজ লায়নঃ কর্পোরেট ঝাঁ চকচকে জীবন ছেড়ে গ্রামীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মুখী শিক্ষার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে উত্তরবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রামীন উন্নয়ন (রুবাল ডেভেলপমেন্ট) মাস্টার্স পাঠ্যক্রম নিয়ে উৎসুক ছাত্রছাত্রীদের যেকোনো প্রান্ত থেকে একফোনেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা মেলে ধরছেন খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপকেরা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধীনে লাইফ লঙ লার্নিং এন্ড এক্সটেনশন বিভাগের অধীনে এই পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে।  


তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রথম বেশ কয়েকবছর এই বিষয়ে সেভাবে অবগত ছিলেন না। তাই চলতি শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় থাকা কলেজগুলিতে ব্যানার টাঙিয়ে বিষয়টি পড়ুয়াদের দৃষ্টিগোচরে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে চলতি শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ চোখে পড়ছে। তাতে বিভাগীয় অধ্যাপকদের নাম্বার থাকছে। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে এই পাঠ্যক্রমে আবেদনের সময়সীমা রয়েছে আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর এর মধ্যেই কয়েকশো ছাত্রছাত্রীরা 


আগ্রহ প্রকাশ করে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। যদিও ভর্তির সময়সীমা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কিছুটা বাড়ানো হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশ্ব বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় অধ্যাপক গ্রামীন অর্থনীতি নির্ভর উত্তরবঙ্গ। সে মতই উত্তরবঙ্গের সমস্যা ও সুপ্ত সম্ভাবনা গুলি তুলে ধরা হয়েছে পাঠ্যক্রমের সিলেবাসে। পাশাপাশি উত্তরেকলেজগুলিতেও এই রুড়াল ডেভলপমেন্ট স্নাতক পাঠ্যক্রম দ্রুত চালুর ক্ষেত্রে উদ্যোগি ভূমিকা নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই তার প্রক্রিয়াকরন শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানান উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ লং লার্নিং ও এক্সটেনশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মনোতোষ বোস। তিনি বলেন কিছু কলেজ আগ্রহ দেখিয়েছে। বর্তমান মাস্টার্স পাঠ্যক্রমের দুটি বর্ষ মিলে রেগুলারে ২৯জন পড়ুয়া রয়েছে এই বিভাগে। বিগত বছরে ২০০র বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। 



বিভাগে সংরক্ষিত ও জেনারেল মিলে মোট ৫৭টি আসন রয়েছে। সোশ্যালসাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে যেকোনো স্নাতক ছাত্রছাত্রীরা এতে ভর্তি হতে পারে। প্রতি সেমিস্টারের গ্রামীন এলাকায় গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ফিল্ড রিপোর্ট তৈরি করতে হয়। কোভিডের সংক্রমনের মাঝে তা করা সম্ভব নয়, তাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন আমাদের দেশের অধিকাংশই মানুষ এখনো গ্রামে বসবাস করে। গ্রামীন ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করে রয়েছে দেশের অর্থনীতির বড় অংশ। রাষ্ট্র যে সরকার পক্ষই পরিচালনা করুক না কেন তাদের গ্রামীণ উন্নয়নের সর্বাধিক নজর দিতে হয়। এদিকে দেশের ১২-১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোর্স পড়ানো হয়। তবে বর্তমানে পেশামুখী কোর্সের ওপর যেখানে ঝোঁক বেশি সেখানে এই পাঠ্যক্রম নিয়ে কতটা ভবিষ্যত নিশ্চয়তা রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের সে বিষয়ে  তিনি বলেন সেদিক থেকে দেখতে হলে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরিয় ক্ষেত্র রয়েছে।



  যেখানে এই পাঠ্যক্রম নিয়ে পড়াশুনো করলে নিয়োগের সম্ভাবনা থাকছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত থেকে রুড়াল ডেভলপমেন্ট দপ্তর, কৃষি বিভাগ, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে নিয়োগে এই বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর লাহা তার সঙ্গে নিয়োগের তালিকায় জোড়েন আরবিআই, নাবার্ড এর নাম। তিনি বলেন আরবিআই কৃষি দপ্তরিয় অফিসার নিয়োগ করে থাকে। তিনি আরও জানান বিশেষত্ব উত্তরবঙ্গ অধিকাংশ এলাকা এখনও গ্রামীণ অর্থনীতির নির্ভর সেদিক থেকে এটি এই অঞ্চলের ছেলে মেয়েদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। কলা,বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগের চিরাচরিত ধারাবাহিক শিক্ষন বিষয়গুলির বাইরে বেশ কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের একাধিক ভিন্ন ধারার পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। 


সেক্ষেত্রে কলা বিভাগের সঙ্কীর্ণ বাঁধাধরা গন্ডির বাইরে পেশামুখী ও বর্তমান সময় প্রাসঙ্গিক নতুন নতুন বিষয়গুলি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভাবনার পরিধি বিস্তারের সুযোগ করে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। এক সময়ে ব্যয় সাপেক্ষ পেশামুখী যে কোর্সগুলি ভিন্ন রাজ্যে গিয়ে পড়তে হতো তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় বহু কলেজে চালু করা হয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বিপুল ব্যয়ের সমস্যা অনেকাংশেই মিটেছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ সুবিরেষ ভট্টাচার্য্য জানান ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে নানা বিষয়ের পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। সম্প্রতি উইমেন্স স্টাডিজ নিয়ে মাস্টার্স পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। তাতেও পড়ুয়াদের ভালো সাড়া মিলছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.