২২ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া মহিলার বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার
দি নিউজ লায়নঃ প্রায় ২২ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুকুর থেকে এক মহিলার বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। সম্পত্তির লোভে নিজের কাকিমাকে খুন করার অভিযোগ উঠল ভাসুরের ছেলেদের বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড় থানার মৌলি মুকুন্দ গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে মৃত মহিলার নাম সরলা নস্কর (৬৫)। তাঁর বাড়ি ওই এলাকায়। তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই এলাকার বাসিন্দা পাঁচু নস্করের সঙ্গে দীর্ঘদিন আগে বিয়ে হয়েছিল ভাঙড়ের বামনঘাটার চড়চড়িয়া এলাকার সরলা নস্করের। বিয়ের পর ওই দম্পতির কোন সন্তান হয়নি। প্রায় ৩০ বছর আগে সরলা নস্করের স্বামী পাঁচু নস্কর মারা যান।
তারপর থেকেই সরলা দেবী মৌলি মুকুন্দ গ্রামে দাইমার কাজ করতেন।পাঁচু নস্কররা চার ভাই ললিত, যোগেন্দ্রনাথ ও সাধন। পাঁচু চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট। পাঁচু নস্করের মেজ দাদা যোগেন্দ্রনাথ নস্করের চার ছেলে।স্বামী মারা যাওয়ার পর এদের মধ্যে দুই ভাই অধীর ও সুধীর নস্করের কাছেই থাকতেন সরলা নস্কর। ইতিমধ্যে সরলা দেবী তার সম্পত্তির অধিকাংশ ভাসুরের ছেলে অধীর ও সুধীর নস্করের নামে লিখে দেন। সম্প্রতি ওই বৃদ্ধা ভাঙড় ২ ব্লকের বেঁওতা এলাকায় তাঁর মামা বাড়ির জমি বিক্রির জন্য ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন।
ওই টাকার মধ্যে সরলা দেবী তাঁর ভাসুরের চার ছেলের মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে ভাগ করে দেন। বাকি টাকার মধ্যে তিনি তাঁর ভাসুরের ছেলে অধীর ও সুধীর নস্করকে ১ লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা দেন। এছাড়াও ওই দুই ভাইকে বৃদ্ধা তার সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেন। বাকি ১ লক্ষ টাকা ওই বৃদ্ধা নিজের ব্যাঙ্কের অ্যকাউন্টে রেখে দেন, তাঁর মৃত্যুর পর পারোলৌকিক কাজকর্ম করার জন্য। অভিযোগ ওই ১ লক্ষ টাকাও অধীর ও সুধীর ব্যবসার কাজে লাগাবে বলে চাইতে থাকে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। কিন্তু বৃদ্ধা ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ, এরপরই গত ২২ দিন আগে ভাসুরের ছেলেরা এই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেয়।

Post a Comment