পুলিশি জেরা্র মুখে কি বললেন সিরিয়াল কিলার আক্তার হোসেন
দি নিউজ লায়নঃ প্রেমিকাকে ভালোবেসেছিলাম কি করে খুন করলাম জানি না! পরপর ধর্ষন করে মহিলা খুনের পর পুলিশি জেরায় এমন কথাও নাকি বলছে নিরুত্তাপ সিরিয়াল কিলার আক্তার হোসেন। মাদকের নেশা ও যৌন উম্মাদনায় শান্ত মাথায় পরপর মহিলাদের একাধিকবার ধর্ষণ করে গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করেছে শিলিগুড়ির দুধর্ষ সিরিয়াল কিলার আখতার।প্রতি খুনের পর নিরুত্তাপ আক্তার হোসেন বাড়িতে করতো মাংস ভাতের ভোজ। প্রেমিকাকে খুন করে কম্বলে মুড়ে দেহ মাটিতে পুঁতে রাখে যুবক মহম্মদ আখতার হোসেন।
অপর মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হতেই পুলিশি জেরায় চার মাস আগে আরোও এক প্রেমিকার খুনের কথা স্বীকার করে নেয় শিলিগুড়ি মাটিগাড়ার সিরিয়াল কিলার। তার বাড়ি লাগোয়া দেখানো জায়গা থেকেই গত সোমবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা হয় প্রেমিকার কঙ্কালসার দেহ। পোশাক ও হাতের বালা দেখে মেয়ে সূচনা মন্ডলের দেহ তার মা শনাক্ত করলেও কঙ্কালসার দেহ ও মায়ের রক্তের নমুনা ডিএনএ টেস্টে দিল্লিতে পাঠানো হবে। মহিলাদের শিকারে আনতে নেশা ও টাকার টোপ দিতো সিরিয়াল কিলার। তার ফোন বাজেয়াপ্ত করে শেষ কয়েক মাসের কললিস্ট ধরে তদন্তে করছে পুলিশ। ১০-১২টি নম্বরের সঙ্গে দীর্ঘক্ষন ও একাধিকবার কথা হয় সিরিয়াল কিলারের সেগুলি কে বা কারা খতিয়ে দেখছে পুলিশের তদন্তকারী অধিকারীকেরা।
একেকটি নাম্বারের সঙ্গে ৫-৬বার ফোন হয়েছে।ফোনের তথ্য ঘেটে কল লিস্ট ধরে আরও কোনো মহিলা তার শিকার হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার নিখোঁজ মহিলাদের ফাইল পুনরায় খুলে এই সিরিয়াল কিলারের সঙ্গে তাদের যোগ রয়েছে কিনা গত মঙ্গলবার থেকেই পুলিশ সে তদন্ত চালাচ্ছে। দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে আক্তার হোসেনকে বলে জানান শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিএসপি মনীষ কুমার যাদব।তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে দুটি খুন, দেহ লোপাটের মামলার পাশাপাশি অপরহরন ও ধর্ষণের মামলাও দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে দ্বিতীয়বার আদালতে পেশ করে ১৪দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ঠান্ডা মাথায় পরপর খুন করেও একেবারে নিরুত্তাপ উল্লাসে দিন কাটাচ্ছিল ছিল এই সিরিয়াল কিলার। ঘটনাক্রমে গভীর রাতের নিস্তব্ধতাকে ঢাল করেই দুটি খুনের ছক কষে সে। পরপর খুন করে পুলিশের নজর এড়িয়ে যেতেও প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল আক্তার। তবে মাটিগাড়া থানার দুঁদে পুলিশ কর্তার গত ৩১শে আগস্ট গৃহবধূ অঙ্কিতা মাহালির খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে হিসেবে খটকা বাঁধে। একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে আক্তার পর্যন্ত পৌঁছান তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামী সুমন খাড়িয়াকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই নেশার আসরের বিষয়টি সামনে আসে পুলিশের। নেশার আসরের শেষ বারের মতো অঙ্কিতার সঙ্গে দেখা হয় সাদ্দাম ও বিকি তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর মাঝেই তদন্তের দায়িত্বে থাকা দুঁদে পুলিশের হাতে আসে একটি ফোন রেকর্ডিং। যাতে রয়েছে সেদিনের খুনের কথা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে দেখা যায় সেমতো সাদ্দাম ও বিকিকে জেরা করেও গল্পের কিছুটা মিল খুঁজে পেলেও শেষটা মিলছে না ঘটনার সঙ্গে। এরপরই আক্তারের নাম উঠে আসে।কল সারাইয়ের টোপ দিয়ে পাইপ মিস্ত্রি আক্তারকে ডাকা পাঠালেও সে আসেনি। পরে মোবাইল ট্র্যাক করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ও মাটি খোঁড়ার পাচন যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।এদিকে মুখোমুখি মাদকের আসরের তিন ইয়ারকেই জেরা কক্ষে বসায় পুলিশ।আর এতেই উঠে আসে কিভাবে খুন করেছিল সিরিয়াল কিলার। আক্তার স্বীকার করে বিকি সাদ্দামকে নিয়ে তিনজন বন্ধু মাদক সেবনের পর তারা দুজন চলে যায়।
সেদিন মাটিগাড়া রেললাইনে অঙ্কিতার সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত একাই ছিল সে। নেশাসক্ত অবস্থায় অঙ্কিতা তাকে এড়িয়ে নিউ চামটা সেতুর দিকে যায়। তার পিছু নিয়ে ২০০টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে যৌন সঙ্গমের প্রস্তাব দেয় সিরিয়াল কিলার। একবার শারিরীক সম্পর্কের পর দ্বিতীয় দফায় বাধা দিলে নৃশংস ভাবে ধর্ষণ করে সজ্ঞা হারাতেই জিনসের প্যান্ট মুখে পুড়ে গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে অঙ্কিতার খুন নিশ্চিত করে সে। এরপর বাড়িতে এসে স্নান করে খাওয়া দাওয়া করে স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। পাক্কা সিরিয়ালকিলার মহিলা খুনের নেশায় উল্লাসে পরের দিন মাংস ভাতের ভোজ করে। পুলিশি জেরায় প্রেমিকা সূচনা মন্ডলের খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনা স্বীকার করে শান্তভাবে জানায় আরও একটা খুন করেছি। পুলিশি জেরায় আক্তারের বক্তব্য-প্রেমিকাকে ভালোবেসেছিলাম কি করে খুন করলাম জানি না! চার বছর ধরে স্ত্রীর আড়ালেই প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।
তার মা কলকাতায় মামা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অন্য পাত্রের সঙ্গে বিবাহ দেয়। সিরিয়াল কিলার জেরায় একেবারে নিরুত্তাপ ভাবে বলেছে - প্রেমিকা বিয়ের পরই তার জন্য ফিরে এসেছিল। সেই প্রেমিকাকেও একাধিক বার ধর্ষণ করে নেশার ট্যাবলেট ও মদ খাইয়ে খুন করে সে। পাল্টা পুলিশের সাঁড়াশি চাপের মুখে সিরিয়াল কিলার জানায় চারমাসের আগে সে রাতে প্রেমিকার সঙ্গে বাড়ি লাগোয়া ফাঁকা জায়গায় নেশা করছিল। তাকে নাকি প্রেমিকাই বলে মদ খেয়ে নিস্তেজ হলে তাকে মেরে ফেলতে।
আইনের চোখে প্রেমিকা সূচনা মন্ডলের অস্তিত্ব মুছে দিতে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জন্ম শংসাপত্রও সেরাতেই জ্বালিয়ে দেয় আক্তার। একেবারে ঠান্ডা মাথায় নিশ্চিন্ত ভঙ্গিমায় পুলিশের সামনে গল্পকাহিনী জোড়ে সিরিয়াল কিলার। তার কাহিনী অনুযায়ী প্রেমিকাকে ভালোবাসতাম সে নিজেই বলেছে মেরে দিয়ে তার বাবার কবরস্থানের পাশে দাফন করতে তাই খুন করেছি। কেউ জানতে না পারে তাই শুঁটকি গোডাউনের পেছনে মাটির নীচে কম্বল মুড়ে পুঁতে দিয়েছি। কবর স্থানে প্রাচীর টপকে দেহ নিতে পারিনি তাই ওখানে পুঁতে দেয়। শুঁটকি মাছের গন্ধে দেহের পচনের দুর্গন্ধ টের পায়নি কেউ।

Post a Comment