সম্পর্কে জড়িয়ে পরপর মহিলাদের খুন!
দি নিউজ লায়ণঃ সম্পর্কে জড়িয়ে পরপর মহিলাদের খুন! প্রেমিকাকে খুন করে কম্বলে মুড়ে দেহ মাটিতে পুঁতে রাখে যুবক মহম্মদ আখতার হোসেন। অপর মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হতেই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে তিন মাস আগে আরোও এক প্রেমিকার খুনের কথা। চার মাস পর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে বেড়িয়ে এলো প্রেমিকার অর্ধ কঙ্কালসার দেহ। মৃত মেয়ে সূচনা মন্ডলের অর্ধ কঙ্কাল দেহের পোশাকের অংশ দেখে দেহ শনাক্ত করলো মা উজ্জ্বলা মন্ডল।
সোমবার গাঁ শিউরে ওঠে ঘটনার সাক্ষী শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকা। পরকীয়ায় জড়িয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে পরপর দুই প্রেমিকাকে নৃশংস ভাবে খুন বছর তিরিশের যুবকের! পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে পরিকল্পনামাফিক দুই প্রেমিকাকেই একই কায়দায় গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন।দেহ লোপাটের মাটি খুঁড়ে কবর। প্রেম যৌন লালসা থেকেই রক্ত পিশাচ হয়ে ওঠা না অপরাধমূলক মানসিকতা? গত ৩১শে আগস্ট মাটিগাড়ার চাঁদমনি চা বাগানে খুনের ঘটনা ঘটে। ডিসপি ইস্ট জয় টুডু জানান ১লা সেপ্টেম্বর মাটিগাড়া চাঁদমনি বাগানের কাছে চামটা নদীর চর থেকে একটি মহিলার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়।
মৃত মহিলা অঙ্কিতা মাহালির (১৯) পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে। ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে মহিলার স্বামী সুমন খাড়িয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর এরপরই উঠে আসে মহম্মদ আখতারের সঙ্গে মহিলার অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন মেলামেশার তথ্য সামনে আসে। পুলিশ তদন্তে নেমে মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ১১ই সেপ্টেম্বর মহম্মদ আখতারকে গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর মাদক কারবার চক্রের সঙ্গেও নাম জড়িয়ে রয়েছে ধৃতের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে গলা টিপে মহিলাকে খুন করেছিল তা স্বীকার করে যুবক।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাঁড়াশি চাপ দিতেই ধৃত স্বীকার করে নেয় প্রেম-পরকীয়া ও তার জেরে তার হাতে খুন এই প্রথম নয়। তিনমাস আগে মদের আসরে বাকবিতণ্ডাতায় তার আরও এক প্রেমিকাকে খুন করেছে সে দুদে পুলিশকর্তারা। পুলিশের জেরায় ধৃত স্বীকার করে তিন চার মাস আগে তার একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়। স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান থাকা সংসারে অশান্তি তুমলে ওঠে। চার বছর ধরে সূচনা মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্ক। এরপরই মদের আসরে তিনমাস আগে প্রেমিকা সূচনা মন্ডলের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তাকে খুন করে তার দেহ কম্বলে মুড়ে রাতের অন্ধকারে মাটিগাড়া রেল লাইন ও গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় মাটির নীচে পুঁতে রেখেছে সে। এদিকে তিনমাস আগে মাটিগাড়া থানায় মেয়ের নিখোঁজের ডায়রি করেন সূচনার মা উজ্জ্বলা দেবী।
খুন করে দেহ লোপাটের বিষয়টি সামনে আসতেই ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ চেয়ে যাবতীয় রেকর্ড বন্ধি বয়ান পুলিশের তরফে পাঠানো হয়। সোমবার মাটিগাড়া থানার পুলিশের তরফে ধৃতকে দিয়ে মাটিগাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘটনার পুনঃনির্মাণ করিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে যুবতীর দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ডিসিপি জয় টুডু। যুবতীর মা উজ্জ্বলা মন্ডল কঙ্কালসার মৃত দেহে লেগে থাকা পোশাকের অংশ দেখে নিখোঁজ মেয়ের দেহ শনাক্ত করে।
পুলিশের উচ্চ আধিকারিক জয় টুডু বলেন প্রথম মহিলার শারীরিক সম্পর্কের সময়তেই খুন করা হয়। ওই মামলায় আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ধৃতকে জেরা করতেই দ্বিতীয় যুবতীর খুনের বিষয়টি সে স্বীকার করে। তাকে ঘটনার নিয়ে যাওয়া হয় তার দেখানো জায়গা থেকেই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দেহ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দেহ সাইন্স ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে আসার পরই ঠিক কিভাবে খুন করা হয়েছে যুবতীকে তা বিশদে জানান সম্ভব হবে। দুই মহিলার পরিবারকেই খবর দেওয়া হয় পুলিশের তরফে।

Post a Comment