জলমগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকা, ফসলের ও ঘর বাড়ির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
দি নিউজ লয়নঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে, এক টানা তিন দিনের রাতভর প্রবল বর্ষণে ফের দুর্যোগের ঘনঘটা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ইতোমধ্যেই জলের তলায় বহু বিঘা কৃষিজমি। ভাঙছে মাটির বাড়ি, বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, সেতু। যার ফলে সেপ্টেম্বরে আরো একবার বন্যার আশঙ্কা জেলায় দেখা দিয়েছে জেলার অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকাগুলিতে। সোমবার থেকে যে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, বুধবার সকাল অবধি তা আরও ভয়াল আকার ধারণ করে অঝোর ধারায় ঝরে চলেছে।
বজ্র-বিদ্যুৎ সহ আকাশভাঙা বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। জেলাজুড়ে প্রবল বর্ষণে কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি ইতিমধ্যে জলের তলায় চলে গেছে। আমন ধান, সবজি চাষেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমা এবং খড়্গপুর মহকুমার ডেবরা, সবং, পিংলা, বেলদা, নারায়ণগড়, দাঁতন, মোহনপুর প্রভৃতি এলাকায় কৃষিজমি, মাটির ঘরবাড়ি, অস্থায়ী সেতু এবং রাস্তাঘাট বিপর্যস্ত। মেদিনীপুর সদর মহকুমার মেদিনীপুর, গড়বেতা প্রভৃতি এলাকারও বিস্তীর্ণ অংশ ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়েছে। জল বাড়ছে কংসাবতী ও শিলাবতী নদীতে। জল ছাড়া হয়েছে ঝাড়খণ্ডের গালুডি বাঁধ থেকেও। সবমিলিয়ে বৃষ্টি থেমে গেলেও, আগামী কয়েকদিনে জেলার একাধিক এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে আগস্ট মাসের মধ্যেই দু’-দু’বার প্লাবিত হয়েছে জেলার ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। এক টানা মেদিনীপুর শহরের কেরানীতলা, চিড়ি মারসাই, ধর্মা, বল্লভপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলে ডুবে যায়।এমনকি ধর্মা এলাকায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে জল বইছে। খড়গপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লক এর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বহু বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হতে বসেছে। যার ফলে চিন্তার ভাঁজ কপালে পড়েছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। ডেবরার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর প্লাবিত এলাকা গুলি ঘুরে বুধবার ঘুরে দেখেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজয় হাজরা মেদিনীপুর শহরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেন,প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের সাথে তিনি কথা বলেন এবং তিনি দূর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসক রেশমি কমল বলেন গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Post a Comment