হোয়াটসএ্যাপে তারা মায়ের পুজো দিলেন ভক্তরা
দি নিউজ লায়নঃ কৌষিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে ষোড়োশোপচারে মায়ের নিশি পুজো হবে সন্ধ্যায়। তার আগে ভোরে মায়ের শিলা মূর্তিকে স্নান করানো হয়। দুপুরে হয় মায়ের বিশেষ ভোগ। নিশি পুজোয় পাঁচ রকম ভাজা, খিচুড়ি, পোলাও, দুরকম তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টান্ন দেওয়া হয়। আরতীতে মাকে আলাদা পোশাক পরানো হয়। আর নিশি পুজোয় মাকে রাজবেশ পরানো হয়। কৌষিকী অমাবস্যা তিথি লাগে সোমবার সাতটা সাতে এবং অমাবস্যা ছাড়বে মঙ্গলবার ছ'টা চৌঁত্রিশে। এবার মায়ের পালি পড়েছে নব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়ের।
তিনি জানান, ভক্তরা হোয়াটসএ্যাপে পুজো পাঠিয়েছেন। গোত্র ধরে পুজো হচ্ছে। এবার সারা দিন অমাবস্যা। কোভিড বিধি মেনে ভক্ত সমাগম নিষিদ্ধ থাকলেও অনলাইনে সারাদিন পুজো চলছে। নিশি পুজোর দায়িত্বে আছেন বামাচরণ মুখোপাধ্যায়। রাতে এই নিশি পুজোর প্রচার হবে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। ভক্তরা মায়ের পূজা আরতি দেখতে পাবেন। অন্যবার যেহেতু লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম, সারা রাত মন্দির খোলা থাকে। এবার নিশি পুজোর পর মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে। এক অর্থে এবার কৌষিকী অমাবস্যায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে তারাপীঠ। তাই ভক্ত শূন্য তারাপীঠ।
অতিমারীর কারণে ও সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউকে খেয়াল রেখে কৌষিকী অমাবস্যায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে তারাপীঠ। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ, জেলা প্রশাসন, তারাপীঠ মন্দির সেবায়েত কমিটি, শ্মশান রক্ষা কমিটি, হোটেল লজ ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন ও সমস্ত গণ পরিবহন ইউনিয়নের সমন্বয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের তিন তারিখ থেকে আট তারিখ পর্যন্ত তারাপীঠ বন্ধ থাকবে। সাধারণত এই বিশেষ দিনে তারাপীঠে বারো থেকে তেরো লক্ষ লোক সমাগম হয়। কিন্তু অতিমারীর কারণে এবারও ওই ক'দিন তারাপীঠ পুরো বন্ধ।
পুলিশ প্রশাসন সজাগ আছে। বিভিন্ন জায়গাই ড্রপগেট করা হয়েছে। মানুষের জীবন থেকে তো কিছু বড়ো নয়, তাই এই সিদ্ধান্তে সকলেই খুশি । কথিত আছে, মহিষাসুর বধের পর শুম্ভ-নিশুম্ভের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন স্বর্গের দেবতারা। শেষে দেবতারা মহামায়ার তপস্যা শুরু করেন। সেই তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী নিজ কোষ থেকে উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত করে এক পরমাসুন্দরী দেবী মূর্তিতে আবির্ভূত হন। নিজ কোষ শরীর থেকে বের হওয়ার জন্য তিনি হলেন কৌষিকী। কৌষিকীদেবী আবার তারা ও কালীতে রূপান্তরিত হন।
আবার শোনা যায় কৌষিকী অমাবস্যার দিন তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সাধক বামাক্ষ্যাপা সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ফলে ওই দিন মা তারার পুজো দিলে এবং দ্বারকা নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয় এবং কুম্ভস্নান করার সমান পুন্য হয়। এই বিশ্বাসে আজও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ওই দিনটিতে তারাপীঠে ছুটে আসেন। রেলপথেই বেশি মানুষ আসেন। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। যদিও অতিমারীর কারণে এবার তারাপীঠ ভক্ত শূন্য।

Post a Comment