ছেলের প্রানের সংশয় শুনে আত্মঘাতী বাবা
দি নিউজ লায়নঃ ছেলের প্রানের সংশয় রয়েছে চিকিৎসকদের মুখে শুনেই হাসপাতালে আত্মঘাতী বাবা। জটিল রোগে আক্রান্ত যন্ত্রণাকাতর কিশোর ছেলেকে অস্ত্রপচারের টেবিলে নিয়ে যাওয়ার আগে হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের বাথরুম থেকে উদ্ধার হলো বাবার ঝুলন্ত মৃতদেহ। এদিকে কিশোরের শারীরিক অবস্থাও গুরুতর। মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। জানা গিয়েছে বিগত একমাস আগে সে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অপুষ্টিজনিত ও ক্ষুদ্রান্তের জটিলরোগ নিয়ে ভর্তি হয়।
দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল সে। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে জয়গাঁওয়ের বাসিন্দা বয়স ১৪এর যোগেশ ওড়াওয়ের জটিল অস্ত্রপচারের প্রস্তুতি চলছিল। চিকিৎসকরা রুগীকে অস্ত্রপচার টেবিলে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। অভিভাবক হিসেবে তার বাবাকে রুগীর শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানানো হয়। তড়িঘড়ি অস্ত্রপচারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও কিশোরের অপুষ্টিজনিত রোগের কারণে প্রথমে তা করা সম্ভব হয়নি।
রুগীকে চিকিৎসাধীন রেখে অস্ত্রপচারের জন্য তার শরীরকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করে চলছিলেন চিকিৎসকরা। যেহেতু রুগীর অপুষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে সেক্ষেত্রে অস্ত্রপচার করা হলেও ছেলের প্রানের সংশয় থেকে যাবে সে বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন তারা বাবা। আর এরপরই ছেলেকে যখন অস্ত্রপচারের জন্য তৈরি করার তোড়জোড় চলছে চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে সেসময় দিকবিদিক না ভেবে হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের বাথরুমে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন রুগীর বাবা বলেই হাসপাতালের অন্যান্য রুগী ও তাদের পরিজনদের কাছে জানা গিয়েছে। জানা যায় বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ বাথরুমের দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীদের।
ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা ভাঙতেই বাথরুমের ভেতর জানালার দিকে মুখ করে ঝুলন্ত মৃতদেহটি দেখতে পান তারা। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক জানান বাইরে থেকে দরজা খোলার পর জানালার দিকে মুখ ঝুঁকে কেউ দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হলেও বিষয়টি বোঝা যায়নি। তবে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় ওয়ার্ডের বাইরে থেকে জানালা দিয়ে দেখতেই আত্মহত্যার বিষয়টি পরিস্কার হয়। তিনি বলেন ১৪বছরের রুগীর অপুষ্টিরজনিত সমস্যা সহ জটিল রোগ ছিল।
একটি অস্ত্রপচারের প্রয়োজন রয়েছে তারই প্রস্তুতি চলছিল। সম্ভবত মৃত ব্যক্তি ওই রুগীটির বাবা। এমনটাই জানাচ্ছেন ওয়ার্ডের অন্যান্য রুগী ও তার পরিজনেরা। কেন এই ঘটনা তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। যেহেতু তার কিশোর ছেলেটি অসুস্থ্য তাই পুলিশের তরফে তাকে দিয়ে দেহ শনাক্তকরন করানো হয়নি। কারন এতে অসুস্থ্য বাচ্চাটির মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে রেজিস্টার দেখে একটি মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে। তা ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশেপাশের পরিচিত কেউ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Post a Comment