নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে চলেছে শতাধিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান
দি নিউজ লায়ন; ঝালকাঠির বিষখালী নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, সাইক্লোন শেল্টার, মসজিদ, বাজারসহ শত শত হেক্টর কৃষিজমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বেশকিছু স্থাপনা। সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে বাসস্ট্যান্ড, সাইক্লোন শেল্টার, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, সড়কসহ প্রায় ২০টি গ্রাম। এরই মধ্যে এ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজার হাজার পরিবার।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে কৃষ্ণকাঠি বাসস্ট্যান্ড, কুতুবনগর মাদ্রাসাসহ এলাকার বসতবাড়ি। এর আগে এ এলাকায় এক রাতে আকস্মিক ভাঙনে তলিয়ে গেছে বসতবাড়িসহ গাছপালা। একইভাবে জেলা শহরের একমাত্র বাসস্ট্যান্ডটি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পোনাবালিয়া, দেউড়ি, আতাকাঠি, দিয়াকুল, মানকি, ভাওতিতাসহ কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি বিষখালী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের প্রায় দেড় হাজার একর আবাদি জমি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় শত শত কৃষক বেকার হয়ে পড়েছেন।
নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর থেকে সারদল গ্রাম পর্যন্ত সুগন্ধা নদীর তীব্র ভাঙন আরও তীব্রতর হচ্ছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে মসজিদসহ বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। নলছিটি ভবানীপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘যে গতিতে নদী ভাঙছে, তাতে ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চানপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’ বিষখালী নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লঞ্চঘাট, বড়ইয়া ইউনিয়নের কাচারিবাড়ি বাজার, চল্লিশকাহনিয়া ও মানকিসুন্দর গ্রাম, নলছিটি উপজেলার হদুয়া দরবার শরিফ, দেউড়ি সাইক্লোন শেল্টার, ভবানীপুর লঞ্চঘাট ও বাজার, বৈশাখীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, চানপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকিছু স্থাপনা।
রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দ্রুত নদীভাঙন ঠেকাতে না পারলে আরও অনেক পরিবার সর্বস্ব হারাবে। কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ারের জল বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ, অফিসপাড়া, লঞ্চঘাট, আউরা হাট, কচুয়া খেয়াঘাট, আমুয়া বন্দর, চিংড়াখালী বাজার ও আওরাবুনিয়া বাজারের বহু স্থাপনা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসেন অপু সিকদার বলেন, ঘরবাড়ি ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাঁধ না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে বিষখালী নদীর জল উপজেলায় প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত তলিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি। ইউএনও সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার এলেই ভাঙন অংশ দিয়ে জল ঢুকে পড়ে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে জল সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে সরাসরি গিয়ে চিঠি দিয়ে এসেছি। শিগগিরই বেড়িবাঁধের সমাধান হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।

Post a Comment