জামাই-এর হাতে শাশুড়ি খুন
দি নিউজ লায়নঃ বাপের বাড়িতে গিয়ে আর সেখান থেকে বাড়ি ফিরতে চায়নি স্ত্রী। আর সেই রাগেই এবার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শাশুড়িকে কুপিয়ে খুন করলো জামাই। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাটের বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসপুর গ্রামে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, আজ থেকে বছর চারেক আগে বাদুড়িয়ার খাসপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সুমিত্রার সঙ্গে বিয়ে হয় বসিরহাটের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার বাসিন্দা সুশান্ত প্রমাণিকের। ওই দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে বলেও জানা যায়।
অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সুমিতার উপর স্বামী সুশান্ত অত্যাচার চালাতো। যা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই গোলমাল লেগে থাকতো। এমনকী সুমিত্রাকে গোলমালের জেরে সুশান্ত ধরে মারধোর করতো এবং খেতে না দিয়ে ঘরে আটকে রাখতো বলেও অভিযোগ। বিষয়টি সমাধানের জন্য এর আগে একাধিকবার সালিশি সভাও ডাকা হয়। কিন্ত স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় কিছুদিন আগে সুমিত্র স্বামীর ঘর ছেড়ে নিজের বাপের বাড়িতে চলে যায়। স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ায় স্বামী সুশান্ত স্ত্রীকে বাড়িতে আসার জন্য প্রায়ই ফোন করতো বলে জানা যায়।
কিন্তু অত্যাচার বন্ধ না করলে শ্বশুরবাড়িতে ফিরবে না বলে স্বামীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় সুমিত্রা। এরপরেই গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্ত্রী এবং শাশুড়িকে একাধিকবার ফোন করে সুমিত্রাকে বাড়ি ফিরতে বলে সুশান্ত। কিন্ত সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাত আটটা নাগাদ রাম দা হাতে বাইকে করে শ্বশুরবাড়িতে যায় সুশান্ত। সশস্ত্র অবস্থায় সুশান্তকে দেখতে পেয়ে শ্বশুরবাড়ির সকলেপালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় চিতকার করতে করতে সুশান্ত তেড়ে যায় শাশুড়ি লক্ষী পাত্রের দিকে। তার চুলের মুঠি ধরে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে সে।
শাশুড়ির মাথায় রাম দা দিয়ে কোপ মেরে রাস্তার পাশের ড্রেনে ফেলে দেয় সে। পরে স্থানীয়রা শাশুড়িকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিতসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় চিতকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় পাড়া প্রতিবেশীরা ছুটে এসে জামাই সুশান্তকে ধরে গণধোলাই দিয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম লক্ষী পাত্র (৪৬)। অভিযুক্ত জামাই সুশান্ত প্রামাণিককে গ্রেফতার করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।
Post a Comment