ডাকঘরে গ্রাহকের নামে আসা আধার কার্ড, গোপনীয় ব্যাংক নথি পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত খোলা মাঠে! - The News Lion

ডাকঘরে গ্রাহকের নামে আসা আধার কার্ড, গোপনীয় ব্যাংক নথি পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত খোলা মাঠে!

 


দি নিউজ লায়নঃ  ডাকঘরে গ্রাহকের নামে আসা আধার কার্ড, গোপনীয় ব্যাংক নথি পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত খোলা মাঠে! ডাকঘরের চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় জনগনের ব্যক্তিগত জরুরী নথি পৌঁছলো কাগজ কুড়োনীদের হেফাজতে।শিলিগুড়ি ডাকঘরের চরম গাফিলতিতে আমজনতার নিরাপত্তা প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে! ঘটনায় ক্ষুদ্ধ শহরবাসী। মঙ্গলবার সকাল নাগাদ তাজ্জ্বব বনে যায় শিলিগুড়ি! শহরের ইস্টার্ন বাইপাসের কানাকাটা মোড় এলাকায় শয়ে শয়ে আধার কার্ড সহ গ্রাহকদের প্যানকার্ড, ব্যাংকের ব্যক্তিগত জরুরী নথি, বিমার কাগজ পড়ে থাকতে দেখে নিমেষে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।  অবর্জনার স্তুপে রোদে শুকোচ্ছে এই জরুরী নথি। 


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেখতে পান এলাকার প্রাচীর দিয়ে ঘেরা পরিত্যক্ত ফাঁকা জায়গায় পড়ে রয়েছে শয়ে শয়ে আধার কার্ড সঙ্গে আরও কিছু একাধিক ব্যক্তির নামের ব্যাংক ও বিমার জরুরী কাগজ। স্থানীয় সুভাষ ঘরাই নামে এক ব্যক্তি একটি বাচ্চা মেয়ের আধার কার্ড তুলে সেখানে থাকা ফোন নাম্বারে ফোন করেন।  জানা যায় ফোনের অপরপ্রান্তের ব্যক্তির নাম দিপু অধিকারী। চয়ন পাড়ার বাসিন্দা তিনি। ফোনে আবর্জনা স্তুপে আধার কার্ড পড়ে রয়েছে শুনে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন দিপু বাবু। তিনি জানান বেশ কয়েকবার পোস্ট অফিসে খোঁজ নিয়েছি আধার কার্ডের বিষয়ে তবে কার্ড মেলেনি। এদিন সুভাষ বাবুর ফোন পেয়ে এসে দেখি মেয়ের আধার কার্ড পরিত্যক্ত এই স্থানে পড়ে রয়েছে। জঞ্জাল থেকে মেয়ের আধার কার্ড খুঁজে পাই। 


তিনি বলেন প্রচুর আধার কার্ড, এটিএম, ও  ব্যাংকের পাশ বই পড়ে রয়েছে জঞ্জালের মাঝে। ডাকঘরের মতো জরুরী পরিষেবামূলক সরকারী দপ্তরের হেফাজত থেকে অবহেলায় সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত নথি কাগজ কুড়নিদের হাতে এসে পৌঁছচ্ছে তা ভাবা যায় না। তাহলে আম সাধারণের নিরাপত্তা কোথায়!এইসব জরুরি নথি কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের হাতে পড়েছে কিনা সে নিয়ে দুশ্চিন্তাও থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান প্রায় দিনই ওই পরিতক্ত এলাকায় কাগজ কুঁড়োনিরা নিজেদের পুটলি থেকে বিভিন্ন অবাঞ্ছিত কাগজপত্র রোদে শুকোতে দেন। এদিনও তারা আধার কার্ড, ব্যাংকের নথি এটিএম কার্ড, পাসবই গুলিকে শুকোতে দেয়।এরপরই স্থানীয়দের খটকা লাগায় এগিয়ে এসে দেখে প্রচুর জরুরী নথি ছড়িয়ে রয়েছে।


খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আশিঘর ফাড়ির পুলিশ।পুলিশ পরিতক্ত এলাকা থেকে আধার কার্ড সহ যাবতীয় জরুরী নথি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আশিঘরফাঁড়ির ওসি পার্থ সারথি দাস জানায় পরিত্যক্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫০০-র কাছাকাছি জরুরী নথি মিলেছে। যার মধ্যে রয়েছে অধিকাংশই আধার কার্ড। ঘটনায় পুলিশের তরফে রবীন্দ্রনগর, ঘুঘুমালি ও শিলিগুড়ি ডাকঘরের অধিকর্তার তলব করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তারা খতিয়ে দেখবেন। পুলিশের তরফে উদ্ধার হওয়া যাবতীয় নথি পোস্ট অফিসের হাতে হস্তান্তর করা হলে, তারা সত্ত্বর তা গ্রাহকদের ঠিকানায় পৌঁছে দেবেন। অন্যদিকে এই পুরো ঘটনায় ডাকঘরের ভুমিকা বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। কেন্দ্রীয় জরুরী পরিষেবায় চূড়ান্ত গাফিলতির জেরেই ব্যক্তিগত নথি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি কয়েকশো শহরবাসী।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.