বারুইপুরে নিহত ৮ পরিযায়ী শ্রমিক - The News Lion

বারুইপুরে নিহত ৮ পরিযায়ী শ্রমিক

 


দি নিউজ লায়নঃ  সংসার টানতে এই প্রথম ভিন রাজ্যে গিয়ে বাড়তি আয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কুলতলির একদল শ্রমিক। কিন্তু বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল আটজনের প্রাণ। রবিবার মাঝরাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বকুলতলা থানার সীমানাবাজার এলাকায়। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১০ থেকে ১২ জন। তাঁরা কলকাতা দুটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি চালকের বিরুদ্ধে ফোনে কথা বলার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ওই গাড়ির চালক আখতারুদ্দিন মণ্ডল।


 তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। একটি গাড়িতে এতজন কে নিয়ে কেনই বা যাওয়া হচ্ছিল, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। এদিকে, সোমবার দুপুরে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে দু লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। করোনাকালে রুজি-রুটির টান ধরেছিল কুলতলি ব্লকের মনিকতট এবং চুপ্রিঝারা গ্রামের শ্রমিকদের। কোনও ভাবে চলছিল তাঁদের সংসার। বাড়তি টাকা আয় করতে তামিলনাড়ুতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন আব্দুল আজিজ গায়েন নামে এক ঠিকাদার। সেইমতো রবিবার রাতে ২৫ জন শ্রমিক দক্ষিণী এই রাজ্যে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। 


বকুলতলা থানার সিকিরহাট থেকে গাড়ি ছাড়ে। চালকসহ মোট ২৬ জন ছিলেন তাতে। প্রথম থেকেই ওই চালক বেশ জোরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার, মহাদেব মণ্ডলরা। এমনকী মাঝে মাঝে ফোনেও কথা বলছিলেন তিনি। তবে দুর্ঘটনার সময় চালকের কানে ফোন ছিল কি না সেটা মনে করে বলতে পারছেন না তাঁরা। রাত তখন ঠিক পৌনে বারোটা। সীমানাবাজার থেকে বাঁক নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি।


 দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে মাটি থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচুতে উঠে দুটি গাছের মাঝখানে আটকে পড়ে। এর জেরে গাড়ি থেকে অনেকেই ছিটকে বাইরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। আহতদের বের করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। খবর পেয়ে বারুইপুর মহকুমা পুলিস আধিকারিক সহ অন্যান্য থানা থেকে পুলিস ছুটে আসে। উপস্থিত হন কুলতলির বিধায়ক গণেশ মণ্ডলও। আহতদের প্রথমে জয়নগরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। 


সেখানে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি দুমড়ে মুড়চে গিয়েছে।  সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বারুইপুর মহকুমা শাসক, বারুইপুর পুলিস জেলার সুপার সহ অন্যান্যরা। এই ঘটনা জানতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন। সেইমতো বারুইপুর মহকুমা শাসকের অফিসে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়,জেলাশাসক সাতজন মৃতের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন। বাকি একজনের পরিবারকে ডায়মন্ডহারবার থেকে চেক দেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.