ফিরে দেখা যাক স্বাধীনতার আগের পরাধীনতার ইতিহাস
দি নিউজ লায়নঃ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে আসে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য। প্রথমদিকে শুধুমাত্র বাণিজ্য করতে আসলেও, ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে তাদের আধিপত্য কায়েম করার দিকে অগ্রসর হয়। মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বসেছিল ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। বাংলা দখলের লড়াইয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নবাবের বিরোধ শুরু হয়েছিল। পরে অবশ্য ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ ই ফেব্রুয়ারি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নবাবের ‘আলিনগরের চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়েছিল।
যদিও এই চুক্তির মাধ্যমেই ইংরেজরা নবাবের অনেক ক্ষমতা নিজেদের হস্তক্ষেপে করে নিয়েছিল। যদিও এরপর ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে জুন ইংরেজ কোম্পানি মিথ্যা অজুহাতে নবাব সিরাজ উদদৌলা এর সাথে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত করেছিল। এই পলাশীর যুদ্ধ মূলত শুরু হয়েছিল নবাবের খাসপাত্র মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায়। এই পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জয়লাভই ভারতে তাদের আধিপত্য কায়েমের গোড়াপত্তন করেছিল।
এরপর ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেছিল। সিপাহী বিদ্রোহের সময় থেকেই ভারতের স্বায়ত্তশাসনের ভার ইংরেজ রাজ পরিবারের হাতে চলে যায়। ইংরেজদের হাত থেকে দেশকে স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য বহু বিপ্লবী শহীদ হয়েছেন। দেশের জন্য তারা নিজেদের প্রাণ কে তুচ্ছ করে দেশের কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট ভারত তার বহু আকাঙ্খিত স্বাধীনতা লাভ করে। ভারত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত হয় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

Post a Comment