তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দেওয়াল লিখন - The News Lion

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দেওয়াল লিখন

 


দি নিউজ লায়নঃ  1998 সালে কংগ্রেস বিভাজন হয়ে তৃণমূল গঠনের সময়েই তৈরি হয় তৃণমুল ছাত্র পরিষদ। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি হিসাবে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য কে মনোনীত করেন। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং সহ বিভিন্ন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঘটে আমূল পরিবর্তন। অতীতের ছাত্র পরিষদ নেতৃত্ব অনেকেই যোগদান তৃণমূল ছাত্র পরিষদে।


 চলতি আগস্ট মাসের 28 তারিখ এই দিনটিকে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে রাজ্যের সর্বত্রই  ছাত্র-ছাত্রীরা মেনে আসছে সেই সময় থেকেই। অতীতের ছাত্র নেতৃত্বই পরবর্তীকালে যুব এবং তারা পরবর্তীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে দেখা গেছে বর্তমান রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্বে থাকা অনেককেই। এমন কি দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুনামও একসময় ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই রাজ্য রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো।


 ছাত্র-ছাত্রীদের নানান অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তার সমাধান করার চেষ্টার মতো সারা বছর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। আর তারই প্রস্তুতি হিসেবে, নদীয়ার শান্তিপুরে পাবলিক লাইব্রেরী সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি দেওয়াল লিখতে দেখা গেলো নদীয়া জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক সভাপতি রাকেশ পাড়ুই কে। শান্তিপুর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কলেজ এবং শহর কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করলেও, মূলত রাকেশই গোটা দেওয়াল, লেখেন নিজে হাতে। 


লেখার ধরন তুলির টান এবং রংগোলার নমুনা দেখ, সহজেই বোঝা গেলো সে এব্যাপারে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং অভ্যস্থ। এ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় তেরো চৌদ্দ বছর আগে, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই পাড়ার তৃণমূলের দায়িত্বে থাকা দাদা কাকা দের সাথে, একাজে হাতে খড়ি। বুথ ব্লক জেলা এভাবেই ক্রমশ দায়িত্ব বৃদ্ধি হয়েছে ছাত্র পরিষদ সংগঠিত করার বিষয়ে। তবে পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় থাকলে, ভোটের সময় ভোটের স্লিপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো, পোস্টার লাগানো, দেওয়াল লেখা এধরনের সব কাজেই দক্ষ হতে হয় তবেই একজন অনুগত সৈনিক হওয়া যায় এ দলে। 


গাড়ির মধ্যে রংতুলি কেনো? এ প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি জবাব, ছাত্র-ছাত্রীদের নির্দেশ দেওয়া নয়, তাদের সাথে মিলেমিশে কাজ করা, তাই প্রতিটা ব্লকে শহরে তাদের সাথে একাত্ম হয়ে, দেওয়াল লিখনের সাবেকি প্রথা ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা। বর্তমানে ফ্লেক্স ফেস্টুনের ঢাকাপড়েছে শহর! তা থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা ছাত্র পরিষদের। অন্যদিকে, দেওয়াল লেখাও একটি শিল্প! তাও বিলুপ্ত হওয়ার মুখে, কিন্তু বহু সাবেকি এই শিল্পকর্ম এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যেদিয়েও বাঁচিয়ে রাখতে চাই। 


তবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কিছু কর্মসূচি জানালেন সভাপতি, পয়লা আগস্ট থেকে 5 তারিখ পর্যন্ত রানাঘাট সাংগঠনিক এলাকায় নটি বিধানসভায় প্রত্যেক ব্লক পঞ্চায়েতে চলবে দেওয়াল লিখন। ছয় থেকে 15 তারিখ পর্যন্ত প্রত্যেক বিধানসভায় একটি করে প্রস্তুতি সভা হবে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি নিয়ম মেনে 50 জনের কম উপস্থিতিতে। 15 ই আগস্ট নিজ নিজ এলাকায় পতাকা উত্তোলন করার পর, 16 ই আগস্ট খেলা দিবস উপলক্ষে রানাঘাট এবং কল্যাণী সাব ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব  সমর্থকদের মধ্যে প্রীতিফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বীরনগর স্টেডিয়ামে ‌।


17 থেকে 26 তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন শহর এবং ব্লকে একটি করে স্ট্রিট কর্নার অনুষ্ঠিত হবে।28 তারিখ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন রানাঘাটের একটি অডিটোরিয়ামে স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহার এবং পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে ভার্চুয়াল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা বার্তা শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।সমগ্র আগস্ট মাসভোর  কর্মসূচির নিয়মিত তত্ত্বাবধান করছেন রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.