শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ
স্কুল সার্ভিস কমিশনে (school service commission) নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ এবার শিক্ষামন্ত্রী (education minister) ব্রাত্য বসুর (bratya basu) বাড়ির সামনে। রবিবার দুপুরে লেকটাউনে (laketown) শিক্ষামন্ত্রী বাড়ির সামনে পৌঁছে যান বেশ কয়েকজন এসএসসি (ssc) পাশ চাকরি প্রার্থী। তাঁরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। দাবি করবেন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। যদিও পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। এক কাপের দাম ১৫ লক্ষ টাকা, ভবানীপুরে চা বিক্রি করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা! জানালেন ভবিষ্যত পরিকল্পনা পোস্টার হাতে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে জমায়েত স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দুপুর তিনটে নাগাদ হঠাত্ই পোস্টার হাতে জমায়েত করতে শুরু করেন বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। এঁদের মধ্যে মহিলারাই বেশি। সবার হাতেই পোস্টার। পোস্টারেও ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। সেই পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
হিমশিম অবস্থা পুলিশের মন্ত্রীর বাড়ির সামনে পুলিশ পাহাড়া থাকেই। কিন্তু হঠাত্ বেশি সংখ্যক বিক্ষোভকারী চলে আসায় বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম অবস্থা হয় পুলিশের। লেকটাউন থানা থেকে বাড়তি পুলিশ আসে। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে পুলিশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে এদিন জমায়েত করেছেন, তাঁরা সকলেই ২০১৬-তে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেধাতালিকায় নাম থাকলেও নিয়োগপত্র পাননি। তাঁরা নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন। জানা গিয়েছে এইসব বিক্ষোভকারীরা গতবছর সল্টলেকে অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন। সমস্যার সমাধানে সরকার হস্তক্ষেপের পরে ৫ সদস্যের কমিটি তৈরি করা হয়। অভিযোগ পরে দেখা যায়, ওই পাঁচজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তারপরেই বাকিরা ফের অনশনে বসেন সল্টলেকে। রবিবার তাঁরা যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বাড়িতে দেখা করতে। পুলিশ নারাজ, বিক্ষোভকারীরাও অনড় বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু পুলিশ দেখা করতে দিতে নারাজ। আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া দেখা করতে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বাড়ির সামনে হাই সিকিউরিটি জোন হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবিতে অনড় রয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা বলেন. সেখানে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে যাননি।
শুধু স্যারের সঙ্গে (bratya basu) দেখা করে তাঁরা চলে যাবেন। আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন, প্রতিবছর নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়োগের আশ্বাসও তিনি দিয়েছিলেন। কেননা তার আগেই হাইকোর্ট উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে নিয়োগে দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার নতুন নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করতেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তারপরেই শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন। ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ করতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কারণে মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বন্ধ থাকার জন্য তিনি কার্যত বিরোধীদেরই দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ রাজ্যে বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত টেট ও এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয় না। পরবর্তী সময়ে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
সেখানে ডিভিশন বেঞ্চ জানায় ইন্টারভিউ নেওয়া হলেও, এখনই কাউকে নিয়োগ করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদের জারি থাকবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয় হাইকোর্টের তরফ থেকে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পুজোর আগে উচ্চপ্রাথমিকে প্রায় ১৪৫০০ নিয়োগ করা হবে। কিন্তু আদালতের নির্দেশের ফলে এই ঘোষণা কার্যত বাধার মুখে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘোষণা অনুযায়ী কাউন্সেলিং-এর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যা হচ্ছে অনলাইনে। এব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে তোলা থাকবে বলেও জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেখান থেকেই চাকরিপ্রার্থীরা সব কিছু জেনে যেতে পারবেন। তিনি জানিয়েছিলেন ইন্টারভিউ-এর তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সবাইকেই ডাকা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন সমস্যার সমাধানে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠলে ওই কমিটি অভিযোগকারীদের কথা শুনবে।

Post a Comment