লাখো তরুণের হৃদয়ের রানী মনরোর পাশে শেষ জীবনে কেউই ছিল না
দি নিউজ লায়নঃ পৃথিবীর সবচেয়ে আবেদনময়ী অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো। আমেরিকার পাম স্প্রিংস আর্ট মিউজিয়ামের সামনে তার উড়ন্ত স্কার্টের মূর্তি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। একাধিক বিয়ে, প্রেম, সম্পর্কের গুঞ্জন ব্যক্তিগত জীবনেও কম বিতর্ক ছিল না গ্ল্যামার কুইনের। ১৬ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে। তারপর আরও দুবার বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হন মেরিলিন। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাফল্যের আড়ালেও একাকিত্বে ভুগতেন এই অভিনেত্রী।
২৫ বছর বয়সের আগেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনবার। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আর পরে তার ভাই রবার্ট কেনেডির সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মনরো। মনরোর শৈশব কেটেছে অনেক কষ্টে। ১২ বছর বয়সে এক পালক মা-বাবার গৃহে আশ্রয় পান তিনি। ১৯৪৬ সালে প্রথম অভিনয় জগতে পা রাখেন মনরো। ১৯৫০ সালে ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ সিনেমায় লাস্যময়ী অভিনয়ে রাতারাতিই তারকা বনে যান তিনি। পর্দায় তার খোলামেলা পোশাক একদিকে যেমন সমালোচনার ঝড় তুলেছে, অন্যদিকে তিনি হয়ে ওঠেন লাখো তরুণের হৃদয়ের রানী।
ডেঞ্জারাস ইয়ার্স (১৯৪৭), অ্যাজ ইয়ং অ্যাজ ইউ ফিল (১৯৫১), লেটস মেক ইট লিগাল (১৯৫১), দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল (১৯৫৭), মাঙ্কি বিজনেস (১৯৫২), দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)। দেড় দশকের ক্যারিয়ারে মোট ৩৪টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। জীবনের নানা সময়ে নানা মানুষের সাহচর্যে থাকলেও শেষ জীবনে মনরোর পাশে কেউই ছিল না।
১৯৬২ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির জন্মদিনে আমন্ত্রিত ছিলেন মনরো। সেই পার্টিতে তার গাওয়া ‘হ্যাপি বার্থডে মি. প্রেসিডেন্ট’ গানটি এখনও মানুষের কানে ভাসে। কেনেডির জন্মদিনের পার্টি থেকে ফেরার এক মাস পর ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে ৩৬ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন এই গ্ল্যামার কুইন। চিকিৎসক তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ড্রাগ ওভারডোজকে দায়ী করা হয়। বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো ৯৫ বছর।

Post a Comment