শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে চালু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র
দি নিউজ লায়নঃ শৈশব ফিরিয়ে দিতে শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। না!জন্ম সূত্রে অপরাধী নয় তারা। কারোবা বয়স ১মাস কেউ আবার কিছুটা বিকশিত হয়ে সদ্য - সদ্যজাতের আবরণ ছেড়ে শিশু বয়সে পা দিয়েছে। এদের বয়স একমাস থেকে সর্বোচ্চ তিন সাড়ে তিন বছর। এমন পাঁচটি শিশুর বাড়ির ঠিকানা মায়ের সঙ্গে শিলিগুড়ির সংশোধনাগারের সেলে। তাদের মায়েরা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। কেউবা বছরের পর বছর সাজায় কাটাচ্ছেন।
ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী মায়েদের সংশোধনাগারের ঠাঁই হলে তার সদ্যোজাত শিশুকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত কারা কক্ষেই মায়ের সঙ্গে রাখার অনুমতি রয়েছে। আর সেমতই শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে মায়ের সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি শিশু। আর এই শিশুদের কারাগারের ভেতরেই সমাজের সাধারণ অন্য শিশুদের মতো বেড়ে উঠতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিশু ও নারী কল্যাণ দপ্তরের দার্জিলিং শাখা।
শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে এই পাঁচ শিশুর খেলাধুলো পড়াশুনোর মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের পেডিয়াট্রিক চিকিৎসকের তালিকা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান দিতে পুনরায় চালু করা হলো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। আইসিডিএস এর তরফে একজন কর্মীকে এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। জেল সুপার কৃপাময়ী নন্দী জানান ২০১২ সাল পর্যন্ত শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু ছিল। মাঝে কিছু জটিলতার জেরে বন্ধ রাখা হয়।
তবে সংশোধনাগারের একটি কক্ষকে শিশুদের উপযোগী করে সাজিয়ে গুছিয়ে পুনরায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু করা হলো। এই পুরো বিষয়টিই দেখছে আইসিডিএস দপ্তর। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সংশোধনাগারের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খুলে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার তৈরী করে তা প্রদানের পাশাপাশি খেলাধুলো পড়াশুনোর মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এখানে।
যাতে তারা যখন সংশোধনাগারের সীমানাপ্রাচীর ছাড়িয়ে বাইরের উন্মুক্ত সমাজে যাবে সেখানে তাদের কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে না হয়। তিনি বলেন আমরা সর্বদাই চেষ্টা করি যাতে তাদের বিকাশ সমাজের আর পাঁচটি শিশুর মতোই স্বাভাবিক গতিতে করা যায়। তিনি আরও জানান পাঁচ বছর বয়সের নিচের অবুঝ শিশুদের মায়ের সঙ্গ ছাড়া বেড়ে ওঠা অসম্ভব।
তবে সংশোধনাগারে পাঁচ বছর বয়সের উর্দ্ধে শিশুদের মায়ের সঙ্গে রাখার অনুমতি নেই। শিশুদের পাঁচ বছর বয়স হলে নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে সংশোধনাগারের তরফে তাদের পরিবারকে শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি জানানো হয়। তবে আক্ষেপ এটাই যে সাজা প্রাপ্ত মায়ের সঙ্গে তার শিশুকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে পরিবার পরিজনেরা। সেরকম পরিস্থিতিতে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

Post a Comment