বিষাক্ত গ্যাসে মৃত ৩ শ্রমিক - The News Lion

বিষাক্ত গ্যাসে মৃত ৩ শ্রমিক

 


দি নিউজ লায়ন;   নির্মীয়মান বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের সেন্টারিং এর কাঠ খুলতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু হল ৩ শ্রমিকের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে জয়পুর থানার ঝামটিয়া ধরমপোতা গ্রামে। মৃতেরা হল সাবির সেখ (৩৫), শেখ আল আমিন (২০) ওরফে তুফান এবং শেখ জেক্কার (২২)। মৃতেরা সকলেই বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা। জয়পুর থানার পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ধরমপোতা গ্রামে একটি বাড়ি তৈরীর কাজ করছিল বীরভূম থেকে আসা শ্রমিকরা। দিন ২০ আগে তারা বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরি করে। মঙ্গলবার দুপুরে সেই সেপটিক ট্যাঙ্কের সেন্টারিং এর কাঠ খোলার জন্য এক এক করে তিন শ্রমিক ভিতর নামে। যদিও কেউ আর উপরে উঠতে পারেনি। সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে প্রত্যেকের মৃত্যু হয়। এদিকে নিচে নামার পর  দীর্ঘক্ষন কেটে গেলেও তিনজন শ্রমিক ওপরে না ওঠায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর দেওয়া হয় জয়পুর থানায়। পরে জয়পুর থানার পুলিশ এবং দমকল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেপটিক ট্যাঙ্কের একটি অংশ ভেঙে ভিতরে থাকা মৃত শ্রমিকদের দেহ উদ্ধার করে।


ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী এক শ্রমিক নাজিম সেখ জানান মঙ্গলবার তারা পাঁচজন নির্মীয়মান বাড়িতে কাজ করছিল। তিনি জানান সেপটিক ট্যাঙ্কের সেন্টারিং এর কাঠ খোলার জন্য প্রথমে জেক্কার নীচে নামে। কিন্তু তার কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় মিনিট ১০ পরে শেখ আল আমিন নিচে নামে। দীর্ঘক্ষন আল আমিনের কোন সাড়া শব্দ না মেলায় চিন্তায় পড়ে যান বাকি শ্রমিকরা। নিচে নামা দুই শ্রমিক কোথায় গেল সেটা খুঁজতে মিনিট ১৫ পর সাবির সেখ নিচে নামে। এদিকে তিনজন পরপর নিচে নামার পর তাদের কোনোরকম সাড়াশব্দ না মেলায় ভয় পেয়ে যায় বাকি শ্রমিকরা। তারা খবরদার স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান দীর্ঘদিন সেপটিক ট্যাঙ্ক বদ্ধ অবস্থায় থাকায় ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়েছিল। যেটা শ্রমিকরা জানতে না পারায় এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.