হাসিনার পাঠানো হাড়িভাঙ্গা আম এলো ভারতে - The News Lion

হাসিনার পাঠানো হাড়িভাঙ্গা আম এলো ভারতে

 


দি নিউজ লায়ণ;    গত দু-বছর ঢালাও ভাবে পদ্মার ইলিশ ঢোকে নি এরাজ্যে।তবুও পুজোর আগে উপহার হিসেবে কিছু ইলিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।এবছর ইলিশের মরশুম শুরু হয়েছে।এবছর ঢালাও ভাবে পদ্মার ইলিশ ঢুকবে কি না, সেটাও নিঃশ্চিত নয়।তবে ইলিশের আগে এবছর বাংলাদেশ সরকার পাঠাল সুস্বাদু হাড়িভাঙ্গা আম।তবে ঢালাও ভাবে নয়।উপহার হিসেবে।দু-দেশের মধ্যে সু-সম্পর্ক থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাস্ট্রপতি এবং এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং সুস্বাদু আম পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রবিবারেই বাংলাদেশের আম এসে পৌচেছে আম।


বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তারা ২,৬০০ কেজি হাড়িভাঙ্গা আমের একটাই কার্টুন তুলে দিয়েছেন পেট্রাপোল সিমান্তের ভারতীয় কর্তাদের হাতে। গত দু-বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার পদ্মার ইলিশ উপহার হিসেবে দিলেও,আম উপহার এবারেই প্রথম।ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সু-সম্পর্কের ভীত আরও অটুট রাখতেই সুস্বাদু আমের উপহাত বলেই মনে করছেন   দুই দেশের কর্তারা। রবিবার বিকেলেই বনগাঁর পেট্রাপোল থেকে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো আম নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রৌওনা দিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।


  ওপারের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবদান ছিল এপারেরও। ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একটা সময় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে ছিল বাংলাদেশের ভুখন্ড। পরবর্তীতে দেশ ভাগের সময় বাংলাদেশ আলাদা রাস্ট্র হলেও দু-দেশের মানুষের প্রতি মানুষের টান রয়েই গেছে। সীমান্তের কাটাতার আর বি এস এফ,বি জি বির চোখ রাঙ্গানি থাকলেও দু-দেশের মানুষের সংস্কৃতি,খাদ্যাভ্যাস ছিল অভিন্ন।পরে ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। সেই তৎকালীন সময় থেকে সুদীর্ঘকাল ধরে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে  সু-সম্পর্ক বজায় রয়েছে।দুই দেশের রাস্ট্র নেতাদের মধ্যেও রয়ে গেছে নিবিড় যোগাযোগ।


 অনেক ক্ষেত্রেই সুখ দুঃখের ভাগিদার হতে দেখা গেছে দুই দেশেরই  রাষ্ট্র নায়কদের।এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে বোনের সম্পর্ক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।দুজনেই একে অপরকে শ্রদ্ধা করেন,ভালোওবাসেন।   দীর্ঘ বছর ধরেই সেই সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাস্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সাথেও সম্পর্ক ভালো শেখ হাসিনার।  করোনার অতিমারির জেরে দু-দেশই বিদ্ধস্ত।বাংলাদেশেও অতিমারি ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছিল।করোনার এই সময় কালের মধ্যেও  বাংলাদেশ সরকার  ভারতীয়দের জন্য ওষুধ পাঠিয়েছিল। 


তেমনি ভারত সরকার ও বাংলাদেশকে করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুদীর্ঘকালীন সেই সম্পর্ক ক্রমে আরো মজবুত হয়েছে। সেই সম্পর্কের রেশ ধরেই বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো আম এদিন পৌচেছে পেট্রাপোল সীমান্তে। রবিবার  বাংলাদেশের হাই কমিশনারের আধিকারিক,বাংলাদেশ সরকারের শুল্ক দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা সহ বাংলাদেশের আধিকারিকরা আম নিয়ে পৌছান ভারতীয় সীমান্তে। বাংলাদেশ সরকারের আম উপহার গ্রহন করতে তখন পেট্রাপোলে হাজির ছিলেন ভারতীয় শুল্ক দপ্তরের সহকারী কমিশনার অনিত জৈন,ট্রেডের পক্ষে কার্তিক  চক্রবর্তী সহ পেট্রাপোল সীমান্তের সরকারি আধিকারিকরা।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো সুস্বাদু হাড়িভাঙ্গা আম উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে দু-দেশের জিরো পয়েন্টে।সীমান্ত সুত্রে জানা গেছে উপহারের একটাই কনসাইনমেন্ট ছিল। ২৬০ টি আমের কার্টুনে  ২, ৬০০ কেজির বাংলাদেশের হাড়িভাঙ্গা আম।এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের শুল্ক দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা বলেন ভারত আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু দেশ।দু-দেশের সম্পর্কও বন্ধুত্বপূর্ণ আছে।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে দেশিয় হাড়িভাঙ্গা আম পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাস্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য।শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে এই উপহার দু-দেশের সম্পর্ক আগামী দিনেও বজায় থাকবে।


পেট্রাপোল সীমান্তের শুল্ক দপ্তরের সহকারী কমিশনার অনিত জৈন বলেন বাংলাদেশ সরকার ২,৬০০ কেজি আম পাঠিয়েছেন।তিনি বলেন আমার বিশ্বাস আমের মিষ্টতার মধ্যে দিয়ে কোভিডের তিক্ততা মুছে যাবে। এই উপহাত দু-দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।     পেট্রাপোল সীমান্ত ট্রেডের আধিকারিক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন করোনার সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতে করোনার ওষুধ পাঠানো হয়েছিল। এদিন সৌজন্যের খাতিরেই বাংলাদেশ সরকার  আম পাঠিয়েছে।ভারত-বাংলাদেশের  মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এটা তারই একটি নিদর্শন। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.