ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট
দি নিউজ লায়ন; ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে শুক্রবার রাজ্যকে একাধিক বিষয়ে হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ভূমিকাতেও চরম ক্ষুব্ধ আদালত। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য যতই অন্য কথা বলুক, হাইকোর্টের মত, হিংসার ঘটনার রয়েছে যথেষ্ট প্রমাণ। শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ভোট পরবর্তী হিংসায় যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার ভার রাজ্য সরকারকে নিতে হবে।
এখনও পর্যন্ত যতগুলি অভিযোগ এসেছে সমস্ত ঘটনায় পুলিশকে আলাদা আলাদা মামলা রুজু করতে হবে। শুধু তাই নয়, ফৌজদারি বিধির ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দি নিতে হবে। হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের যাতে আর কোনও অসুবিধায় না পড়তে হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। হিংসায় অনেকের ঘরবাড়ি পুড়েছে, সেক্ষেত্রে রেশন কার্ড হারানোর একটা সম্ভাবনা থাকছে। কারও রেশন কার্ড হারালেও নতুন করে তাঁর রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকেই। আর কারও রেশন কার্ড হারালেও তাঁকে যেন সাহায্য করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বেলেঘাটায় ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিজিত সরকার নামের এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। দ্বিতীয়বার তাঁর দেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হাইকোর্টের নির্দেশেই গত ২৪ জুন মানবাধিকার কমিশনের সাত সদস্যের কমিটি রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসে। শুক্রবার আদালতে মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা ২৮ জুন পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। রাজ্যের মোট ১৬৮ জায়গা ঘুরে দেখেছে মানবাধিকার কমিশনের দল। যত সংখ্যক অভিযোগ আসছে, তা এত কম সময়ে এত অভিযোগ শুনে তার নিষ্পত্তি করা অসম্ভব। মানবাধিকার কমিশনের তরফে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সময় চাওয়া হয়েছে। পুলিশের তরফে সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। যার ভিত্তিতে আদালত পুলিশকে তিরস্কার করেছে। অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশনকে রাজ্যের অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য ১৩ জুলাই অবধি সময় দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment