মিল খোলার দাবিতে ভারত জুটমিলের শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দি নিউজ লায়ন; গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ দিয়ে হাওড়ার দাশনগরের ভারত জুটমিল বন্ধ করে দিয়েছিল মালিকপক্ষ। প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও এখনও খোলেনি এই মিল। প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে মিলের গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন শ্রমিকরা। মিল খোলার দাবিতে মিলের গেটের সামনে চলছে বিক্ষোভ। অবিলম্বে মিল খুলতে হবে এই দাবিতে স্লোগান দেন শ্রমিকরা। ভারত জুটমিলের কর্মী পলাশ খাঁড়া জানান, এই মিলের ২৬ শতাংশ শেয়ার রাজ্য সরকারের। সকালের শিফটে কাজে এসে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ দেখতে পান মিলের কর্মীরা। এরপর থেকেই গত প্রায় দেড় মাস বন্ধ হয়ে রয়েছে মিলটি। কোনও টাকা পয়সা দেওয়া হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেই ধিক্কারে আজ সকলে রাস্তায় নেমেছেন। দিনের পর দিন শ্রমিকরা খেতে পাচ্ছেন না। তারপরেও মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পথে বসিয়ে রাতের অন্ধকারে মাল নিয়ে চলে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে মিল খুলতে পারে। তা সত্বেও বন্ধ করে রেখে দিয়েছে মালিক। এখানে প্রায় ৫০০ জন কর্মী কাজ করেন। সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে আবেদন পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এই পরিস্থিতি যদি চলে শ্রমিকদের অবস্থা আরও শোচনীয় হবে।
আন্দোলনরত মিলের আর এক কর্মী মৃত্যুঞ্জয় তেওয়ারি জানান, মালিকপক্ষ অজুহাত দেখিয়ে মালপত্র নেই বলে রাতের অন্ধকারে সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক এর নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের অসহায় করে রাস্তায় নামিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মাল বের করে নিয়ে গেছে। এরই প্রতিবাদ করছে মিলের শ্রমিকরা। ২০১১ সাল থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড এমনকি মৃতদের প্রাপ্য টাকাও আটকে রেখে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। এর আগে এই কারখানায় মৃত্যু হয়েছিল এক শ্রমিকের। পরে তাকে বেআইনিভাবে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করতে বাধ্য করেছিল। এর প্রতিবাদ করা করা হয়েছিল মালিকের বিরুদ্ধে। সেই কারণে ওইদিন সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক এর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা দিয়ে দেবে মালিকপক্ষ। কিন্তু দীর্ঘদিন টসলবাহানার পরেও দেওয়া হয়নি। সরকার যেখানে বলছে ৫০ শতংশ কর্মী দিয়ে কোভিড বিধি মেনে মিল খুলতে পারে। সেখানে মিল কর্তৃপক্ষ মিল খুললনা। লকডাউন এর সময় অন্যান্য মিল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বেতন মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই মিল কর্তৃপক্ষ কোনও টাকা দিচ্ছেনা।

Post a Comment