জলমগ্ন বেলুড়ের সড়কে চলছে বোট
দি নিউজ লায়নঃ জল যন্ত্রণা অব্যাহত হাওড়ায়। কারশেড এখনও জলমগ্ন। বাতিল ট্রেনও। বেলুড়ের সড়কে যাত্রী নিয়ে চলছে বোট। হাসপাতালেও ঢুকেছে জল। গত দু'দিনের বৃষ্টিতে এমনই ছবি হাওড়ার।বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ এবং সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের জেরে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন প্রবল বর্ষণ হয়। এর জেরে হাওড়া কার্যত বানভাসি চেহারা নেয়। টিকিয়াপাড়া কারশেড, ঝিল সাইডিং এবং হাওড়া গুডস কোচিং ইয়ার্ড জলে ডুবে যায়। এর ফলে রেললাইনে স্বয়ংক্রিয় সিগনালিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এর জেরে ম্যানুয়ালি ট্রেন চলাচল করানো হয়। এমন ১৭টি পয়েন্ট থেকে ট্রেনগুলিকে ম্যানুয়ালি আসা-যাওয়া করানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ০২৩০৩ পূর্বা এক্সপ্রেস, ০২৩৫৩ লালকুয়ান এক্সপ্রেস, ০৩০০১ হুল এক্সপ্রেস, ৩০১৫ হাওড়া ভাগলপুর এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, ০২৩৩১ হিমগিরি এক্সপ্রেস ৩ ঘন্টা ৩৫ মিনিট, ০৩০০৯ দুন এক্সপ্রেস ৩ ঘন্টা ২০ মিনিট, ০২৩২৩ হাওড়া - নিউ দিল্লি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ৫ ঘন্টা ৫ মিনিট নির্ধারিত সময়ে দেরিতে ছাড়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ১২ নম্বর আপ হাওড়া ব্যান্ডেল, ১০ নম্বর ডাউন ব্যান্ডেল হাওড়া, ০১ পেয়ার আরামবাগ - হাওড়া এবং ০২ পেয়ার হাওড়া - শেওড়াফুলি লোকাল স্পেশাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির জেরে সার্কুলার রেল সার্ভিস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি না হলেও আকাশ মেঘলা রয়েছে। শহরের নিচু এলাকা এখনো জলে ডুবে রয়েছে। পুরনিগম এলাকার অধিকাংশ ওয়ার্ডেই গতকাল জল জমেছিল। হাওড়ার পঞ্চাননতলা, বেলিলিয়াস রোড, বেনারস রোড, ইস্ট ওয়েস্ট বাইপাস, টিকিয়াপাড়া, লিলুয়া ভূতবাগান, পেয়ারাবাগান, কোনা, বালি, বেলুড় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বেলুড়ে রেলের আন্ডারপাস জলের তলায় ডুবে যায়। গত দু'দিনের প্রচন্ড বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে উত্তর হাওড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সত্যবালা আইডি হাসপাতাল। সম্পূর্ণ জলমগ্ন হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোর। জল জমার কারণে হাওড়ার চার্চ রোডের রেল কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০ জনকে। এদের নিয়ে যাওয়া হয় স্কুলবাড়িতে। সেখানে থাকা খাওয়ার সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়। দু'দিনের ভারী বৃষ্টিতে জলে ভাসছে বেলুড়ের একাংশ। বেলুড়ের বিধানপল্লীতে কোমর সমান জল। ঘরেও জল ঢুকেছে। রাস্তায় নামানো হয়েছে প্যাডেল বোট। পরীক্ষার্থী এবং অসুস্থ মানুষদের বোটে করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে ক্লাবের সদস্যরা এবং স্থানীয় টোটো চালকরা। এই পরিস্থিতিতে পানীয় জল এবং ত্রিপল নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর।
স্থানীয় বাসিন্দা তমাল সাহা জানান, তাঁদের এখানে বৃষ্টি হলেই প্রায় হাটু সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। ঘরে জল ঢুকে যায়। জলের উপর দিয়ে এইভাবেই চলাচল করতে হয়। এই জল প্রায় তিন দিন থাকবে। বোট নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এখানে নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করলে জল জমার সমস্যা দূর হবে। তবে অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে তাড়াতাড়ি জল নেমে যায়। থার্ড ইয়ারের পরীক্ষার্থী পৌলোমী গোস্বামী জানান, স্থানীয়রা প্যাডেল বোটে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সুবিধা হচ্ছে। না হলে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে অসুবিধা হতো। এখানে জলের জন্য সকলের অসুবিধা হচ্ছে। ঘরে জল ঢুকে গেছে। রান্না করতে অসুবিধা হচ্ছে। খাবার জলের কল ডুবে গেছে। যাতায়াত করতে অসুবিধা হচ্ছে। এলাকার প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি জানান, প্রাথমিকভাবে নিকাশি নালার সংস্কারের কাজ করেছেন। এইজন্য শুধু বিধানসভা বিধানপল্লী নয়, সমগ্র ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে অতি ভারী বৃষ্টি হলেও জল ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে নেমে যায়। নিকাশি নালার সংস্কারের কাজ রেলের সঙ্গে কথা বলে করা হয়েছে।
সেই কারণে এই দুর্যোগে বৃষ্টি যাই হোক নতুন করে বৃষ্টি যদি না হয় আর গঙ্গার জল উল্টোদিকে আর না আসে তাহলে দু'তিন ঘন্টার মধ্যে জল নেমে যাবে। প্রাথমিকভাবে রিলিফ সেন্টার করা হয়েছে। কিছু আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের সরিয়ে অন্যত্র রাখা হয়েছে। কিছু মানুষের যাঁদের বাড়ির ছাদ দিয়ে জল পড়ছে তাদের ত্রিপল দেওয়া হবে। এখানকার মানুষের জলযন্ত্রণা আছে। কিন্তু নিকাশি উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে এখনও এক বছর বাকি আছে। যেসব বাড়িতে জল ঢুকেছে তাদের জিওলিন দেওয়া হবে। পানীয় জলের জন্য ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টিতে হাওড়া শহরে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। ঘরের মধ্যে জল ঢুকে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এর প্রতিবাদে হাওড়া কোনা এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন মনসাতলা এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অবরোধ শুরু করেন। প্রায় কুড়ি মিনিট পর জগাছা থানার পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রশাসনকে জানিয়েও জল নিকাশির স্থায়ী সমাধান হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমা জল নামছে না। এর প্রতিবাদেই সরব হয়েছেন তাঁরা।

Post a Comment