সিপিএমের দলীয় কার্যালয় লাগোয়া জুয়ার রমরমা ঠেকে হানা পুলিশের
দি নিউজ লায়ন; শিলিগুড়ি শহরে কায়দায় বদল এনে কারবার চালাচ্ছে জুয়াড়িরা। তবে রেহাই নেই কালো কারবারীদের! শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রূপের লাগাতার অভিযানে বিষ দাঁত ভাঙছে মাদক কারবারি থেকে জুয়ার ফাটকা চক্রের। শিলিগুড়ি শহরের কেন্দ্রে হোটেল ও ভবনের পাশাপাশি একাধিক ঘুমটি এবং ছোট দোকানের আড়ালে ঠেক গড়ে চালানো হয় এই কারবার। সাদা চোখে দেখলে বোঝা ভার জুয়াড়িদের নয়া ডিজিটাল কায়দা। স্মার্টফোন আর কম্পিউটারে শশব্যস্ত এই কালো কারবারীদের যেন এক ঝলক দেখে মনে হতে পারে কোনো দপ্তরিয় কাজ সারা হচ্ছে। টেবিলের সামনে নগদ টাকা রেখে আর পুরোনো কায়দায় চলে না এখন জুয়ার আসর।
বড় বড় হোটেল ও ভবনের পাশাপাশি শহরের পাড়ার ভেতর, ব্যস্ততম সড়কেই ছোট দোকানের অন্তরালে চেয়ার টেবিল কম্পিউটার ও স্মার্টফোন ঠেক গেড়ে বসে কারবারিরা। মূলত ওয়ান ডিজিটে যন্ত্রের মাধ্যমে চলে ফাটকা চক্রের এই পুরো খেলা। এমনকি নিয়মিত জুয়াড়িদের আবার রোজ সশরীরে আসরে আসারও প্রয়োজন পড়েনা। ফোনের মাধ্যমে কারবারিদের একবার পছন্দের নম্বর বতলে দিলেই কাজ শেষ। এরপরই সেই নম্বর ফোনে শুনে জুয়াড়িদের নামে বুকিং সেরে ফেলে চক্রের কার্যকর্তারা। আর এরপর ফোনেই জানিয়ে দেওয়া হয় ফলাফল।
রবিবার দুপুরে নাগাদ শিলিগুড়ি ডাবগ্রাম এলাকায় এভাবেই অবাধে রমরমিয়ে চলা ওয়ান ডিজিট জুয়ার আসড়ে হানা দেয় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসওজি টিম। আসর থেকে আটক করা হয় ছয়জনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও খবর লেখা পর্যন্ত নগদ ও ধৃতদের বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি পুলিশ। স্থানীয়দের কাছে জানা গিয়েছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো এই কারবার।
ডাবগ্রাম এলাকার পুরনিগমের স্বাস্থ্যকেন্দ্র মাতৃসদনের একেবারে উল্টোদিকে তথা ২৩নাম্বার ওয়ার্ড সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ের পাশেই ঘুমটি ঘরে দিবারাত্র চলতো জুয়াড়িদের কারবার। ঘুন্টি ঘরে রীতিমতো টেবিল ও চেয়ার বসিয়ে কম্পিউটার, স্মার্টফোনের মাধ্যমে চলে কারবার। এই খপ্পড়ে থেকে বাদ যায়নি দিনমজুর থেকে সরকারি চাকুরীজীবীরাও। তবে কিভাবে সিপিএমের দলীয় কার্য্যালয় লাগোয়া জুয়ার আসর রমরমিয়ে ওঠার পরও কিছু টের পেলেন না দলীয় কর্মীরা! তা নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানায় বেশ কয়েকমাস ধরে সকাল-সন্ধ্যা জমজমাট আসর চলতো। কাউকেই পরোয়া করতো না তারা। দর্শকর্মা ভান্ডারের নেপথ্যে লাগালাগি ঘুমটি ঘরে আসর চালানোর সাথে ওই দোকান মালিকের যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য এমনকি পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র মাতৃসদনে আসা টিকা গ্রাহকদের মধ্যে এই কালো কারবারের বিস্তার করে কারবারিরা। টিকা গ্রাহকদের টিকার লাইনে দাঁড়িয়েই টিকিট সরবরাহ করে ফলাফল জানানো হতো। অন্যদিকে এভাবেই শিলিগুড়ি শহরের একাধিক জায়গায় আড়ালে কারবার চলছে। সম্প্রতি এসওজি টিম বেশ কয়েকটি হোটেল ও ভবন থেকে সিকিমের অবাধ জুয়াড় কোম্পানীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা চক্রের কিংপিনেদের গ্রেপ্তার করেছে। এদের সঙ্গে শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িদেরও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের এসওজি।

Post a Comment