গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভজাত সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী-ভাশুর
দি নিউজ লায়নঃ গৃহবধূর উপর নির্যাতন ও তাঁর পেটে লাথি মেরে গর্ভজাত সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগে পুলিস স্বামী ও ভাশুরকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনা ভাতার থানা এলাকায়। ধৃতদের নাম সাদ্দাম শেখ ও সামাত শেখ। ভাতার থানার আমবোনা গ্রামে তাদের বাড়ি। পুলিস জানিয়েছে, গলসি থানার কোলকোল গ্রামের চুমকি বেগমের সঙ্গে বছর চারেক আগে সাদ্দামের বিয়ে হয়।
বিয়েতে চাহিদামতো পণ দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের দু’মাস পর যৌতুকের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর উপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। স্বামীর বাইক কেনার জন্য চুমকিকে বাপেরবাড়ি থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাপেরবাড়ি থেকে স্বামীর বাইক কিনে দেওয়া হয়। এছাড়াও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তারপরও অত্যাচার বন্ধ হয়নি। ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে গর্ভপাত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর উপর অত্যাচার বাড়ে। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে তাঁকে মারধর করা হয়।
তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। তাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাপেরবাড়ির লোকজন তাঁকে বর্ধমান শহরের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তাঁকে পানাগড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন। দু’মাস পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন। ফের তাঁর উপর নির্যাতন শুরু হয়। দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি সিজেএম আদালতে মামলা করেন। সিজেএম কেস রুজু করে তদন্তের জন্য ভাতার থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

Post a Comment