প্লাস্টিক দূষনের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা- - The News Lion

প্লাস্টিক দূষনের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা-

 


দি নিউজ লায়নঃ  প্লাস্টিক দূষণ এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের যেমন অবহেলা করা হয়ে  থাকে,ঠিক তেমনই ভাবনা চিন্তা ও করা হয়ে থাকে । এই প্লাস্টিক মানবজাতির ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। প্লাস্টিক পদাৰ্থ ব্যবহারে বেড়ে চলেছে দূষনের মাত্রা। পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিকস প্লাস্টিক, গৃহস্থলীর প্লাস্টিক পন্যের বেশির ভাগই পুনর্ব্যবহারযোগ্য হয় না। এগুলো পরিবেশ থেকে বর্জ্য পদার্থ আকার নেয়। মানুষের অজান্তেই প্লাস্টিক দূষন বাড়িয়ে দেয়।মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে আমাদের পরিবেশ এই প্লাস্টিক ব্যবহারের জন্য।


 ২০১২ সালে গবেষনায় জানা গিয়েছে বিশ্বের  সমস্ত সমুদ্রে আনুমানিক ১৬৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জন আছে। ক্লোরিন যুক্ত প্লাস্টিক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে জলের সাথে মিশে গিয়ে দূষিত করে দিচ্ছে । প্লাস্টিক আমাদের প্রাকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট করে দিচ্ছে  I আমাদের জীবনযাপনের ধারাকে বদলে দিচ্ছে। তারপর নানা  পর্যায়ের নিমিত্ত দ্রব্য আমাদের জীবনযাপনের যাবতীয় ক্ষতি হচ্ছে। প্লাস্টিক মাটিতে পড়ে থাকলে কোনো ভাবেই নষ্ট হয় না, মাটির উর্বরতা কে নষ্ট করে দিচ্ছে I ১৮৫০ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী আলেকজান্দ্রার পার্কস  প্রথম রাবার থেকে প্লাস্টিক তৈরি করেন I ১৮৬৯ সালে জন ওয়েসেল হায়াতের তৈরি কৃত্রিম পলিমার ও সেলুলয়েড এক যুগান্তকারী আবিস্কার করে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে মানব জাতীর কাছে।


১৯০৭ সালে লিও হেনরিক বায়েকল্যান্ড প্রথম  ব্যাকলাইট অথার্ৎ সম্পূর্ণ রূপে কৃত্রিম  প্লাস্টিক তৈরি করে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।প্লাস্টিক জল নিরোধক, হালকা এবং একে নানা আকারে ব্যাবহার করা যায়। অন্য দিকে প্লাস্টিক দ্রব্যটি উৎপাদন ও ব্যায় দুটি সাশ্রয়ী। তাই এটির চাহিদা ও বেশী। প্লাস্টিক দ্রব্যটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এত ভাল ভাবে পরিচিত যে এটির খারাপ দিক গুলো আমাদের দৃষ্টিতে আসে না।প্লাস্টিকের বর্জ্য উৎপত্তির স্থান এবং আসে পাসে বিভিন্ন আকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। 


সমুদ্রের স্রোত , বাতাসের অসম গতি ভৌগলিকভাবে বিচিত্র কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের অঞ্চলে গেলে তা ভালোভাবে উপলভ্য করা যাচ্ছে প্লাস্টিক পরিবেশে অবস্থান করে।‌ এটি নিয়মিতভাবে প্রানীর খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ছে, যা প্রানীর জন্য খুব বিপদাশঙ্কা।বিভিন্ন উপায়ে প্লাস্টিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে।প্লাস্টিক বিভিন্ন ভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে । 


১৯৬০ সালে প্লাস্টিক ব্যবহার শপিং মলে শুরু হয়।প্লাস্টিক আমাদের জীবনে অনেক ক্ষতি করছে জানা সত্ত্বেও প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জড়িতI প্লাস্টিক ব্যাগ সাধারণত জিনিস বহনের কাজে লাগে। প্লাস্টিক ব্যাগগুলি সাধারণত বায়োডেগ্রেডেবল। ভারত বার্ষিক ৫.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিকের বর্জ্য উৎপাদন করে I ভারতে বর্তমানে কেবলমাত্র একটি আইন রয়েছে যা কার্যকর - কোনও নির্মাতা বা বিক্রেতারা প্লাস্টিকের ব্যাগটি ব্যবহার করতে পারবেন না যা 50 মাইক্রনের নীচে রয়েছে কারণ পাতলা ব্যাগগুলি তার অ-ডিসপোজেবলতার কারণে পরিবেশের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


 সমস্ত প্লাস্টিকের ব্যাগে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ না হওয়ায় প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার এখনও বেশি।সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বর্জ্য এবং প্লাস্টিকের দূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে অসংখ্যা দেশ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যাবহার ও বিক্রি করা বন্ধ করেছে।আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যাবহার বর্জন করেছে। এই প্লাস্টিক জমে গিয়ে নালা নিকাশি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অল্প বা বেশী বৃষ্টিতেই চারিদিকে জলমগ্ন হয়ে যাচ্ছে। প্লাস্টিক ব্যবহার করা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করতে হবে। প্রকৃতির সৌন্দর্য এই প্লাস্টিক নষ্ট করে দিচ্ছে। আসুন এই প্রকৃত সৌন্দর্য বজায় রাখতে প্লাস্টিক ব্যবহার বর্জন করি এবং পৃথিবীকে সুষ্টুভাবে‌ নিশ্বাস নিতে সাহায্য করি। দূষণ মুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের সবার কাজ ।


কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.