হরিজনদের জন্য আবাসন তৈরির পরিকল্পনা শিলিগুড়ি পুরনিগমের - The News Lion

হরিজনদের জন্য আবাসন তৈরির পরিকল্পনা শিলিগুড়ি পুরনিগমের

 


দি নিউজ লায়নঃ   হরিজনদের জন্য আবাসন তৈরির পরিকল্পনা শিলিগুড়ি পুরনিগমের। শহরের প্রাণকেন্দ্রেই সাফাই কর্মীদের জন্য ঝাঁ চক আবাসন নির্মাণের ব্লুপ্রিন্ট তৈরিতে ব্যস্ত শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার। পুরো ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে পুরসভার ৫বিঘা জমিতে আবাসন তৈরীর ভাবনা চিন্তা নিয়ে কাগজে কলমে ছক আঁকছেন রঞ্জন বাবু। আঁকা ছক মোতাবেক কাজ হলে প্রায় ৩০০মানুষের মাথার গোঁজার ছাদের পাকাপাকি বন্দোবস্ত মিলবে। 


জানা গিয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে পুরনিগমের সরকারি জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন কয়েশো সাফাই কর্মী। ১৪নাম্বার ওয়ার্ডে পাঁচ বিঘা জমির ওপর ৬০-৭০টি সাফাই কর্মী পরিবার রয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করেন। তাদের সেই জমিতেই রাজ্য সরকারের প্রকল্পের আওতায় আবাসন তৈরীর পরিকল্পনার ভাবনা চিন্তা রয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের। 


বুধবার পূর্ব বোর্ডের দীর্ঘ বঞ্চনার হাত থেকেই রেহাই পেতে সাফাই কর্মী সংগঠন উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী সমিতির তরফে একটি স্মারকলিপি শিলিগুড়ি পুরোনিগমের তৃণমূলের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেবকে প্রদান করেন তারা।  তবে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টিধারা বর্ষণ করতে চলেছে প্রশাসক বোর্ডের আবর্জনা নিষ্কাশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা রঞ্জন সরকার। তাদের  দাবি-দাওয়া শোনার আগেই তিনি জানান সাফাই কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একাধিক ভাবনা চিন্তা রয়েছে।


 শহরের কেন্দ্রে হাউজিং ফর অল বা রাজ্যের অন্য কোনো বিকল্প প্রকল্পের আওতায় তাদের বসবাসকারী জমির ওপরই আবাসন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের যে ভাবনা চিন্তা রয়েছে সেখানে দুটি পাঁচ তলা আবাসন তৈরি করা হতে পারে। ৬০-৭০টি পরিবার রয়েছে। প্রত্যেককে প্রায় ৭০০-৭৫০স্কোয়ার ফিটের আধুনিক ফ্ল্যাটের আদলে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। বাড়ির মালিকানা তাদের হতে তুলে দেওয়া হবে। ৩০০মানুষ নিজের বাড়ি পাবেন। 


এদিনই পুর ইঞ্জিনিয়ারদের তড়িঘড়ি কোন প্রকল্পের আওতায় এই আবাসন নির্মাণের কাজ করা সম্ভব সে সংক্রান্ত ফাইল নেড়ে ঘেটে চূড়ান্ত ব্লু প্রিন্ট  তৈরি করে দ্রুত পেশ করার নির্দেশ দেন রঞ্জন বাবু। তিনি জানান পূর্ব বোর্ডের আমল থেকে যে বঞ্চনার শিকার সাফাই কর্মীরা হয়েছেন তা থেকে বর্তমান বোর্ড তাদের মুক্তি দিয়ে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে। বেতন বৃদ্ধি সহ যে সমস্ত দাবিদাওয়াগুলো তাদের রয়েছে তা নিয়েও আলোচনা করে তাদের হিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


 তবে ভাড়ার গাড়ির খাটানোর নামে তেল চুরির দুর্নীতি চক্রকে যে সাফাই কর্মচারী সংগঠনের তরফেই মদত মিলুক না  কেন তা বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী সমিতির সভাপতি কিরণ রাউত জানান বর্তমান বোর্ড আবাসন সহ একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আমরা তাদের এই ভাবনায় আশ্বস্ত। বেতন বৃদ্ধি নিয়ে পুর প্রশাসক গৌতম দেব জানিয়েছেন কোভিডকালে পুরোনিগমের আয়ের ভাড়ার একেবারেই তলানিতে। স্থায়ীভাবে তৃণমূল বোর্ড ক্ষমতায় এলে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.