ফের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ
দি নিউজ লায়ন; দেবাঞ্জনকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠল খোদ হাওড়ায়। যাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানা গেছে। অভিযোগ, তিনিও নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। পরিচয় ভাঁড়িয়ে তিনি ভালবেসে বিয়েও করেছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তের বাড়ি হাওড়ার জগাছায়।
তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গত মে মাসে অভিযোগও জমা পড়েছে জগাছা থানায়। জানা গেছে, ২০১৯ এর নভেম্বরে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ হয়। পরের বছর সামাজিক বিয়ে হয়। এরপর মিউচুয়াল ডিভোর্স হয় মার্চে। হাওড়ার জাগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের হয় মে মাসে। প্রাক্তন স্ত্রীর অভিযোগ, নীলবাতির গাড়ি নিয়ে মাঝেমধ্যে বাড়ির সামনে আসতেন তাঁর স্বামী। বিদেশেও গিয়েছিলেন। প্রাক্তন স্ত্রীর সন্দেহ হয়, যিনি নিজেকে সিবিআই আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন তিনি এতো ছুটি পান কিভাবে ? প্রাক্তন স্ত্রীর দাবি,
উনি নিজেকে কখনও সিবিআই আধিকারিক, কখনও রেলের আধিকারিক, কখনও লালবাজারে পোস্টিং বলে বিভিন্ন পরিচয় দিতেন। প্রাক্তন স্ত্রীর সন্দেহ হয় যে এতো বড়ো পদে উনি আছেন বলেন, অথচ তিনি সারাক্ষণ বাড়িতে থাকেন কিভাবে ? স্বামী-স্ত্রী'র মধ্যে ঝামেলার পর গত মে মাসে হাওড়া জগাছা থানায় প্রাক্তন স্ত্রী অভিযোগ করেন। তবে, অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার হননি। এদিকে, রবিবার অভিযুক্তের মা সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ২৯ জানুয়ারি থেকে ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। তাঁর বৌমা তাঁকে জানিয়েছিলেন ছেলে কিছুই কাজ করে না।
ছেলে তাঁদের বলতো সে সিবিআই আধিকারিক। তাঁদের কাছ থেকে জোর করে টাকাপয়সা নিয়ে বউকে নিয়ে সে দুবাই বেড়াতে গিয়েছিল। ২০১৯ এর নভেম্বরে ছেলের বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়। তার নামে কেস হয়েছে, এই ভয় দেখিয়ে ছেলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিত। ছেলের নিজস্ব কোনও গাড়িই ছিল না। যে ড্রাইভার গাড়ি চালাত, সেই ড্রাইভারই ছিল গাড়ির মালিক। যে গাড়িটা সে চড়ত সেটি ছিল ভাড়া করা গাড়ি। তিন চার মাস আগে থেকে গাড়িতে নীল বাতি লাগায়। পাড়ার প্রতিবেশীদের অভিযোগ চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়েছে। এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই বলে অভিযুক্তের মা দাবি করেন। ছেলে ব্যাঙ্গালোরে একটি বেসরকারি কলেজ থেকে বি টেক পাস করে। বৌমা তাঁদের সঙ্গেই আগে থাকতেন। জানুয়ারি মাস থেকে তিনি আলাদা হয়ে গেছেন।
Post a Comment