বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ দুই আধিকারিক এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ - The News Lion

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ দুই আধিকারিক এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

 


দি নিউজ লায়ন;   ভারতবর্ষের শিক্ষামহলে নজিরবিহীন ঘটনা, উপাচার্যের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ ।   বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ দুই আধিকারিকের  বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় মামলা দায়ের করলো মানবাধিকার সংগঠন। শনিবার সকালে ই-মেল মারফত শান্তিনিকেতন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইট বা এপিডিআর-এর বোলপুর-শান্তিনিকেতন শাখার সম্পাদক শৈলেন মিশ্র। বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এবং আরও দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। 


এপিডিআরের পক্ষ থেকে। অভিযোগ  বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক কুমার মাহাতো অনৈতিকভাবে বিশ্বভারতীর কর্মী অধ্যাপকদের বেতন বন্ধ করে রেখেছেন।  পাশাপাশি  অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন বন্ধ রাখা হয়েছে কোনো একটা অজ্ঞাত কারনে। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিরুদ্ধে আরো গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি উপাচার্য পদের অপব্যবহার করে  গোটা শান্তিনিকেতনের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, অস্থায়ী কর্মী – সকলের মধ্যে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছেন। যার ফলে এখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। সন্ত্রাসবাদীরা যেমন আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে ঠিক সেইভাবেই উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশ্বভারতীর বেসরকারী নিরাপত্তা  কর্মীদের নিয়ে উপাচার্য একটি  গোরিলা বাহিনী গড়ে তুলেছেন , অঙ্গুলিহেলনে যারা আতঙ্কের পরিবেশকে কায়েম রাখতে সদা প্রস্তুত। 


ভারতীয় সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কাজ করিয়ে মাইনে না দেওয়া বা প্রাপ্য অর্থ না দেওয়া আইনবিরুদ্ধ। তাই কর্মী অধ্যাপকদের মাইনে বন্ধ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন না দেওয়া বেআইনি। এই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে জুন মাসের প্রাপ্য বেতন এবং অবসরকালীন ভাতা বিশ্বভারতীর কোন কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পাননি, এই ঘটনা শুধু এবছরই নয়, ২০২০ সালের জুন এবং জুলাই মাসেও একই ঘটনা ঘটেছিল বলেও এই অভিযোগ পত্র লেখা হয়েছে। সঠিক সময়ে নিজেদের প্রাপ্য বেতন ও পেনসন না পাওয়ায় চিঠি মারফৎ বিশ্বভারতী আচার্য নরেন্দ্র মোদিকে অভিযোগ জানানোয়  দুই অধ্যাপক কে শোকজ করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেই চিঠিতে অধ্যাপক সুদীপ  ভট্টাচার্য এবং কৌশিক ভট্টাচার্য্য এর বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল ভাঙার অভিযোগ এনে দুজন কে শোকজ করা হয়েছে। 


শৈলেন মিশ্র অভিযোগ করেছেন যে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিশ্বভারতীতে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছেন যা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আইনের পরিপন্থী তাই অবিলম্বে উপাচার্য সহ বাকি দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে ওই এফআইআর-এ।


এপিডিআর সংগঠনের সম্পাদক এদিন বলেন, “অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদে বসার পর থেকে, বিগত দুবছর ধরে একের পর এক অনৈতিক কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, কর্মী, শিক্ষকদের। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী কখনো বলেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ বহিরাগত’,কখনো আবার প্রকাশ্যে বলতে শোনা গেছে ‘আমি যাবার আগে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে শান্তিনিকেতন থেকে মুছে দিয়ে যাব’, আবার বলতে শোনা গেছে গুন্ডা দিয়ে ছাত্রদেরকে পেটানোর কথা। এই সব এখানকার সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই সামগ্রিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গী সাথীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.