বীরভূমে সিপিএমের জেলা সম্পাদকের ছেলে যোগ দিলো তৃণমূলে
দি নিউজ লায়নঃ বাবা সিপিএমের বীরভূম জেলা সম্পাদক , ছেলে বাবার রাজনৈতিক দলের ওপর বিশ্বাস ভরসা হারিয়ে তৃণমূলে যোগ দিল। মনসা হাঁসদা জেলা সম্পাদক ও বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি, তাঁর ছেলে বুদ্ধদেব হাঁসদা, দীর্ঘদিন সিপিএমের সদস্য , ধান্যসড়া গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক, সুবক্তা ও সমাজসেবী হিসাবেই এলাকায় পরিচিত বুদ্ধদেব। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সদলবলে যোগ দেন তিনহাজার সিপিএম সমর্থক নিয়ে যোগদান করলেন। তাঁর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেনবীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মন্ডল , পাশাপাশি আশ্বাস দেন ভবিষ্যতে তাকে জেলা নেতৃত্বে নিয়ে এসে মানুষের কাজে লাগানো হবে।
‘কেষ্ট কাকু’র নির্দেশেই আগামীদিনে রাজনীতি করবেন বলেই জানালেন বুদ্ধদেব। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “মনসা হাঁসদা নিজেও খুব ভালো মানুষ। কোনোদিন কারো সঙ্গে কোন ঝগড়া করে নি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলেছে। তাঁর ছেলে ভালো হবেই। বুদ্ধদেবের মতো মেধাবী ছেলে, সুবক্তাকে কোন অঞ্চল বা বুথ স্তরে নয় তাকে জেলা নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। আগামী জেলা মিটিংয়ে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বুদ্ধদেবের হাত ধরে বীরভূম জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেসের আদিবাসী সেলকে আরো বেশী মজবুত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।
এদিন বুদ্ধদেব হাঁসদা বলেন, “২০১১ সালের আগে পর্যন্ত আদিবাসীদের অনেক উন্নয়ন ছিলো, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গড়ার পরে আদিবাসীদের প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। আজকের পরে কেউ বলবেন না যে আমাদের শিরদাঁড়া বিক্রি হয়ে গেছে। বিক্রি হয়ে যায় নি। উন্নয়নে সামিল হতে এসেছি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা রাজ্যে যে উন্নয়ন করেছেন তাতেই আমরা সামিল হলাম।”তিনি বলেন, “বাবার অলিখিত অনুমতি নিয়েই আজ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলাম।”
এছাড়াও আজ সিঙ্গি, বাহিরী অঞ্চল থেকে প্রায় তিন হাজার জন, বিভিন্ন দল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ রয়েছে যারা এবার বিধানসভা নির্বাচন ও গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করেছিল। অনুব্রত মন্ডল বলেন , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখে বোবা মানুষ ও চুপ থাকতে পারে না । এলাকার উন্নয়নের জন্য সিপিএম ছেড়ে তৃনমুলে যোগদান করলো।

Post a Comment