আজ উত্তর ২৪ পরগণা জেলাজুড়ে পালিত হল শহীদ দিবস - The News Lion

আজ উত্তর ২৪ পরগণা জেলাজুড়ে পালিত হল শহীদ দিবস

 


দি নিউজ লায়নঃ     উত্তর ২৪ পরগনা ; শহীদ স্মরণে হৃদয়ের আবেগঘণ অনুভূতিতে উত্তর ২৪ পরগণা জেলাজুড়ে পালিত হল মহান একুশে জুলাই শহীদ দিবস। জেলার প্রতটি তৃণমূল কার্যালয়ে  এদিন যথাযোগ্য ভাবগম্ভীর মর্যাদায় পালিত হয় শহীদ দিবস। জেলার প্রতিটি  শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের ব্লক পর্যায়ে এদিন সকাল থেকেই তৃণমূলের নেতা কর্মীরা শহীদ দিবস উদযাপনে উদ্যোগ নেন। অন্যান্যবারের মতো একুশে জুলাই উপলক্ষ্যে এবার কলকাতার ধর্মতলায় যাওয়ার তোড়জোড় না থাকলেও করোনা বিধি মেনে জেলা জুড়ে শহীদ দিবসে  পালনে তোড়জোড়ের খামতি ছিলো না।


 করোনা বিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই জেলা বিভিন্ন স্থানে পালিত হয় একুশে জুলাই শহীদ দিবস। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার  মধমগ্রামে জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ের পাশাপাশি জেলার প্রতিটি স্তরে এদিন তৃণমূলের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশাপাশি শহীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানা, জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীণ ঘোষ সহ জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বরা।  


উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, জেলাতে সার্বিকভাবে সকল স্তরে শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। এদিন দুপুর গড়াতেই দেখা যায় জেলজুড়ে ব্যাতিক্রমী চিত্র। টিভির পর্দায় চোখ রেখে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ বসে পড়েন একুশের ভার্ক্সুয়ালি সভামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শোনার জন্য। নেত্রী কী বার্তা দেন সেদিকে যেমন তৃণমূলের নেতা কর্মীদের নজর ছিলো, তেমনি মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখা যায় সাধারণ মানুষেরও। 


এদিন আপামোর মানুষের মধ্যে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শোনার আগ্রহই ফের প্রমাণ করে দিলো, নেত্রীর জনপ্রিয়তার মাপকাঠি ঠিক কোথায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা যে তিনি নিজেই তা ফের প্রমাণিত হয়ে গেলো এদিন। উত্তর ২৪ পরগনা  জেলার প্রায় প্রতিটি তৃণমূল কার্যালয়েই টিভিতে এদিন তৃণমূল নেত্রীর ভাষণ শোনানোর বন্দ্যোবস্ত করা হয়। জেলা তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষ বলেন, একুশের আমদের কাছে আবেগের দিন, শ্রদ্ধার দিন। এদিন উপযুক্ত মর্যাদার সঙ্গে জেলা জুড়েই একুশ উদযাপন করা হয়েছে। 


জেলার বিভিন্ন স্তরে আমরা এদিন নেত্রীর ভাষণ শোনানোর ব্যাবস্থা করেছি। নেত্রীর বক্তব্য যাতে সমাজের সকলের কাছে পৌছে যায় তারজন্য আমাদের কর্মীরা গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় এলাকায় ব্যানার পোস্টারের মাধ্যমে এই বিষয়ে প্রচার সেরেছেন। এদিন সকাল থেকেই বহু এলাকায় তৃণমূলের নেতা কর্মীরা নেত্রীর ভাষণ কখন টিভির পর্দায় দেখা যাবে তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে জানিয়ে আসেন। একুশে জুলাই উপলক্ষ্যে এদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উদ্যোগে রক্তদান ও নানা সামাজিক কর্মকান্ডের আয়োজনও করা হয়।


 জেলা জেলা সদর বারাসত থেকে শুরু করে বসিরহাট, বনগা, ব্যারাকপুর ও বিধান্নগর জুড়ে একুশ উদযাপনে কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি। দলীয় নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যেও এদিন একুশের আবহ অন্যমাত্রা নেয়। স্বাভাবিকভাবেই এদিন মুসলিম সম্প্রদায়েরর ঈদুল আজহা থাকা সত্বেও জেলার সংখ্যালঘুদের মধ্যে সকাল থেকেই একুশ উদযাপনের বাড়তি গুরুত্ব নজর কাড়ে। একাধিক মুসলিম সম্প্রদায় অধ্যূষিত এলাকা দেগঙ্গা, হাড়োয়া, আমডাঙ্গা সহ বিভিন্ন জায়গায়  সাধারণ মানুষ পথে ধারে অস্থায়ী শহীদ বেদী স্থাপন করে তৃণমূলের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেও শহীদ দিবস পালন করেন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.