পশ্চিম মেদিনীপুরের ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে নামানো হলো এন ডি আর এফের টিমকে
দি নিউজ লায়নঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শুক্রবার থেকেই ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ।তাঁরা কেশপুর , ঘাটাল , দাসপুর , চন্দ্রকোনায় কাজ করছেন । শনিবার দাসপুরের রাজনগর থেকে একটি সদ্যজাত শিশু সহ শঙ্করী জানা ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে পুলিশের উদ্ধারকারী দল। গত দুদিন ধরে তাঁরা কোমর সমান জলে ঘরের মধ্যে সদ্যজাত শিশুকে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
কেশপুরের বহু গ্রামে এখনো ৫ থেকে ৬ ফুট জলে ডুবে রয়েছে । এখানে ৪৬ টি মাটির বাড়ি জলের তোড়ে ভেঙে গেছে । চারপাশে জল বাড়তে থাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সঙ্গাহীন হয়ে বাড়িতেই পড়ে যান কেশপুরের খড়িকা গ্রামের শঙ্করী বাগ (৫৬ ) । তাঁকে খাটিয়ায় করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আনা হলে মারা যান তিনি । গ্রামে জল আরও বেড়ে যাওয়ায় মেদিনীপুরের শ্মশানেই তাঁর সৎকার করা হয় ।
এদিকে এদিন খড়্গপুরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর । কাঁসাই নদীতে জলস্তর বাড়তে থাকায় শনিবার আনিকেটের লকগেট খুলে দেওয়া হয় । ঘাটাল থানায় প্রায় কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে । ঘাটালের বিবেকানন্দ মোড়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থানার কাজকর্ম চলছে ।দাসপুর , চন্দ্রকোনায় বেশ কয়েকটি স্থানে শিলাবতী , ঝুমি , তমাল নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে গ্রামগুলিতে ।
কেলেঘাই ও কপালেশ্বরী নদীর পাশে থাকা সবং এর ১৫ টি গ্রাম ৫ ফুট জলে ডুবে আছে । কোমর সমান বা এর বেশি জল পেরিয়েই গ্রামবাসীদের দূর থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পানীয় জল আনতে হচ্ছে । পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসক রশ্মি কোমল জানান , জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ ।বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ১০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে ।
এনডিআরএফের টিম কাজ করছে । বিডিও ও স্থানীয় থানা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন । ত্রিপল , রান্না করা খাবার , শুকনো খাবার , শিশুর খাবার , পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে । জল না কমলে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান । যার ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেইসঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

Post a Comment