ব্যস্ততার মাঝে খানিকটা স্বস্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়ুন ভূস্বর্গ ভুটান ভ্রমণে
দি নিউজ লায়নঃ আকর্ষণীয় এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের শহর ও সুন্দর পাহাড় দেখে আপনার মন ভরে যেতে পারে। তাই কোনো এক ঝলমলে রোদে আপনি সড়কপথে বেরিয়ে পড়তে পারেন ভুটানের উদ্দেশে। ভুটান বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ। এ কারণে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে ভুটানে। এ দেশে নেই কোনো দূষণ। কার্বন নেগেটিভ দেশগুলোর মধ্যে ভুটান অন্যতম। সাজানো গোছানো এবং পরিচ্ছন্ন এক দেশ হলো ভুটান। চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য দিয়ে দেশটি আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই আপনি ভুটান-ইন্ডিয়া বর্ডার পার হতে পারবেন।
ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করেই সোজা চলে যাওয়া যায় ভুটানে। সেখানে ঘুরে দেখার মতো আছে থিম্পু, পারু, পোখারা এবং পুনাখা শহর। প্রথম দিনই থিম্পু থেকে পুনাখা শহরে যাওয়ার পারমিট করিয়ে রাখলে পরবর্তীতে কোনো সময় নষ্ট হবে না। পরের দিন যাত্রা করুন পুনাখার উদ্দেশ্যে। সকাল ১০টায় রওনা দিলে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। যাওয়ার পথেই দেখতে পাবেন দুচালা, পুনাখা জং এবং সাসপেনশন ব্রিজ। সারাদিন ঘুরে রাতে আবার থিম্পুতে ফিরে আসাটাই ভালো। পুনাখাতে থাকার মতো তেমন ভালো হোটেল নেই।
তৃতীয় দিন স্বপ্নের শহর পারো দর্শনে বেরিয়ে পরুন। হোটেল ড্রাগনে ভারতীয় সব খাবার পাবেন। পারো হচ্ছে ভুটানের সবচেয়ে সুন্দর শহর। এ শহরেই আছে ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। চতুর্থ দিনে ঘুরে আসতে পারেন টাইগার নেস্ট/তাকসিন থেকে। ভুটানের ধর্মীয় এবং পর্যটনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো টাইগার নেস্ট। ৩০০০ ফুট হেঁটে উঠতে হয় সেখানে। উঠতে সময় লাগতে পারে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার মতো। নামতে সময় লাগে ১ ঘণ্টার বেশি। ভুটান বেড়ানোর উপযুক্ত সময় হল সেপ্টেম্বর-নভেম্বর। কেননা এই সময়ে বৃষ্টি হয় না, আকাশ পরিষ্কার থাকে, আবহাওয়া সুন্দর থাকে এবং খুব বেশি ঠাণ্ডা পড়ে না। শীতকালে ভুটানে বরফ জমে রাস্তা-ঘাট বন্ধ হয়ে যায়।
খরচ কত হবে?
জনপ্রতি আপনার খরচ পড়বে ১৬-১৭ হাজার টাকা (গাইড ফি ছাড়া)। মনে রাখা ভালো, সময় স্বল্পতার জন্য আপনি হয়তো হাভেলি ও বুম্থাং-এর মতো আকর্ষণীয় জায়গায় যেতে পারবেন না। হাভেলি, বুম্থাং ঘুরলে খরচ কিছুটা বাড়বে। আর সব কিছুতে ট্যাক্সি বাদ দিয়ে পাবলিক বাসে ঘুরলে খরচ কিছু কম পড়বে কিন্তু সময় বেশি লাগবে।
যেসব নথিপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি-
১। ভারতীয় ভিসাসহ পাসপোর্টের ফটোকপির কয়েক কপি, আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে রাখবেন।
২। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের দু-তিনটি ফটোকপি।
৩। চাকরিজীবী হলে এনওসি ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ডের দু-এক ফটোকপি।
৪। ভুটানে সরকারি ছুটি অনেক বেশি, তাই সরকারি ছুটির লিস্ট দেখে ভ্রমণ প্ল্যান করলে ভালো।
৫। ভুটানে কোথাও কোনো মসজিদ ও মুসলিম রেস্টুরেন্ট আপনার চোখে পড়বে না।
৬। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৭। ভুটানে কোথাও সিগারেট খেতে পারবেন না। সেইসাথে যত্রতত্র থু থু ফেলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। রাস্তা পার হতে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করুন।

Post a Comment