কালিয়াচক কান্ডে সিআইডি জেরায় উঠে এল তথ্য
কালিয়াচক কান্ডে সিআইডি জেরায় উঠে এল তথ্য। প্লাইউড দিয়ে মোট ৫টি কফিন তৈরি করেছিল আসিফ। জল ভর্তি করে শ্বাসরোধ করে খুন। সিআইডি জেরায় উঠে এল তথ্য। সোমবার আসিফকে জেরা করে এসটিএফ ও সিআইডির টিম। জেরা উঠে এসেছে,বাড়ির আত্মীয়দের খুন করতে প্লাইউড দিয়ে মোট ৫টি কফিন তৈরি করে আসিফ। তারপর সেইসব কফিনে দেহগুলি রেখে তাতে জল ভর্তি করে দেয়। এভাবেই শ্বাসরোধ করা হয় ওই চারজনের। তারপর কফিনগুলি চৌবাচ্চার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে পরিবারের চার সদস্যকে খুন করেছিল ছোট ছেলে আসিফ মহম্মদ। কালিয়াচক থানার ১৬ মাইল এলাকার গুরুটোলা গ্রামে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এমনই তথ্য ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে । কিন্তু তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনো ধন্ধে রয়েছেন। সেটি হল, পরপর চার জনকে খাবারে মাদক মিশিয়ে খুন করা । নিজেই মিস্ত্রি সেজে ধৃত আসিফ মহম্মদ বাড়িতে চৌবাচ্চা তৈরি করেছিল। আবার শ্রমিক সেজে চারজনের কবরের মাটি খুঁড়েছিল । এই কাজগুলি করার সময় অনেকটাই পরিশ্রম করতে হয়েছে ধৃত আসিফ মহাম্মদকে।
একদিনে এতগুলো কাজ একসাথে করা হয়নি ধীরে ধীরে এই কাজগুলো পড়েছিল যে যুবক কিন্তু মাদক খাইয়ে পরিবারের চার সদস্যকে খুন করেছিল একদিনেই। পুলিশ জানিয়েছে , যখন ধৃত আসিফ মহম্মদ বাড়িতে চৌবাচ্চা বানাচ্ছিল, গোডাউনে মাটির খুড়ছিল সেই সময় পরিবারের সদস্যরা জীবিত থাকলেও তারাও কেন প্রশ্ন করে নি। কি কারনে বাড়ির গোডাউন ঘরে মাটি খুঁড়ছে ছোট ছেলে। আসিফ মহম্মদ নিজের হাতেই ইঁট, বালু , সিমেন্ট দিয়ে চৌবাচ্চা তৈরি করেছিল।
সেই চৌবাচ্চাতেই অচৈতন্য অবস্থায় পরিবারের চার সদস্য বাবা-মা, নাবালিকা বোন এবং ঠাকুমাকে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদ। এইসব সম্পর্কে যদি আগাম পরিবারের লোকেরা আঁচ পেয়ে থাকতো, তাহলে তখন কেন তারা তখন সতর্ক হলো না। কিন্তু পুলিশের কাছে এখনো পরিষ্কার হয় নি যে, এত বিপুল পরিমাণ টাকা কি কাজের জন্য ধৃত আসিফ মহম্মদ জোগাড় করতে উদ্যোগী হয়েছিল। পাশাপাশি মাধ্যমিক পাস করার পর দু'বছর সে বাড়িতে ছিল না। গতবছর সে কালিয়াচকের গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে। এতদিন ধৃত ওই যুবক কোথায় কিভাবে সময় কাটিয়েছিল, তা জানতেও মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ । কিন্তু পুলিশকে তদন্তে নানান ধরনের বিভ্রান্তি মুলক কথাবার্তা বলে অসহযোগিতা করছে ধৃত আসিফ মহম্মদ ।

Post a Comment