বিরিয়ানি তন্দুরি চিকেন খেতে খেতে খুন ! আসিফের নৃশংসতায় চমকে যাচ্ছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও
দি নিউজ লায়ন; পরিবারের চার সদস্যকে অচৈতন্য অবস্থায় রেখে , তাদের পাশে বসেই বিরিয়ানি খেয়েছিল অভিযুক্ত ছোট ছেলে আসিফ মহম্মদ। এরপর বাবা-মা, নাবালিকা বোন ও ঠাকুমাকে জলে ডুবিয়ে খুন করার পর কখনো অনলাইনে অর্ডার দিয়েছিল পিৎজা, আবার কখনো অর্ডার দিয়েছিল তন্দুরি চিকেন। ক্লান্ত শরীরে শক্তি বল বাড়াতেই নাকি এইসব খাবার দরকার ছিল তার। তবে নেশার উপকরণ জোগাড় করার মত কাউকে পায় নি বলে সেটি থেকে বিরত ছিল কালিয়াচকের কফিন কিলার আসিফ মহম্মদ।
পুলিশি হেফাজতে ধৃতকে জেরা করে একের পর এক রহস্যজনক তথ্য উঠে আসে তদন্তকারী কর্তাদের হাতে। এমনকি যেভাবে পুলিশি জেরার চটপট উত্তর দিচ্ছে ধৃত আসিফ মহম্মদ, তাতে রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েছেন আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারেরাও । তবে ধৃতের কোন কথা ঠিক এবং কোনটা বেঠিক তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে পড়েছে পুলিশ কর্তারা। যদিও ধৃত আসিফ মহম্মদ তার বাবা-মা, নাবালিকা বোন এবং বৃদ্ধা ঠাকুমাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু এই খুনের পিছনে প্রকৃত কী রহস্য রয়েছে তা নিয়ে এখনও পরিষ্কার নয় পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, টাকার জন্য যখন বাবা জাওয়াদ আলীর সঙ্গে চরম বিবাদ শুরু হয় ছোট ছেলে আসিফ মোহাম্মদের, তখনই সে পরিকল্পনা করে নিয়েছিল পরিবারের সকলকে একে একে খুন করবে । ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরিবারের চার সদস্যকে অচৈতন্য করার পর বেশ কিছুক্ষণ তাদের পাশে বসে বিরিয়ানি খেয়েছিল আসিফ মহম্মদ। বাড়ির বাইরে ডেলিভারি বয়ের কাছ থেকে খাবার নেওয়ার সময় আসিফের পিছনে ধারালো একটি চাকু ছিল। বাইরে বেড়ানোর মুহূর্তে যদি কেউ যদি বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে অথবা মারমুখী হয় তাহলে তাকে খুন করতেও পিছপা হতো না অভিযুক্ত ওই যুবক, পুলিশি জেরাতে এমনও তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, পরিবারের চার সদস্য খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ মঙ্গলবাড় করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই চার্জশিট পেশ করে দেওয়া হবে । ধৃত আসিফ মহাম্মদ তার বাবা-মা , নাবালিকা বোন এবং ঠাকুমাকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে। এখনো পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

Post a Comment