ভারতীয় যোগশাস্ত্রের ইতিহাসে অমলিন অবদান রেখে যাওয়া এই মানুষটি সম্পর্কে জেনে নিন - The News Lion

ভারতীয় যোগশাস্ত্রের ইতিহাসে অমলিন অবদান রেখে যাওয়া এই মানুষটি সম্পর্কে জেনে নিন

 


দি নিউজ লায়ন;  ২১ তারিখ যোজ দিবস। ‘যোগ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘ইউয্‌’ থেকে। যার মানে হল একত্রিত করা- আত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগ। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে প্রাচীনকালে ভারতে ছিলেন ‘পতঞ্জলি’ নামে হিন্দু যোগ দর্শনের একজন ধারক। শুক্রবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সারা বিশ্বে পাশাপাশি সমগ্র ভারত জুড়ে পালন করা হবে এই বিশেষ দিনটি। তবে খৃষ্টপূর্ব ৭ম শতকে শিক্ষাক্ষেত্রে তক্ষশীলা খুব প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। খৃষ্টপূর্ব ৭০০ শতক থেকে ৫০০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত তক্ষশীলার ছিল এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ব্রহ্মদত্ত, কৌটিল্য, পাণিনি, যিবেক ও পতঞ্জলি’র মত মহান পণ্ডিতগণ তক্ষশীলায় অধ্যয়ন করতেন। এদের মধ্যে পতঞ্জলি ছিলেন ভারতীয় যোগ দর্শনের প্রবর্তক, মহান দার্শনিক, ব্যাকরণবিদ ও বিজ্ঞানী। তিনি ছিলেন ‘যোগশাস্ত্রে’র স্রষ্টা। 


হিন্দু যোগ দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক শাস্ত্রগ্রন্থ ‘যোগসূত্র’র সংকলক ছিলেন পতঞ্জলি। মহাভাষ্য (পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী-এর উপর রচিত কাত্যায়নের বৃত্তিকার টীকা) গ্রন্থেরও রচয়িতা। দ্বাদশ শতাব্দীতে তিনি বিজয় নগরের রাজা বীরবাক্কুর প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন এই পতঞ্জলি। তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম ‘মাধব নিদান’। রোগ নির্ণয়ের জন্য এই গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।    


যোগ দর্শনের প্রবর্তক পতঞ্জলির প্রদর্শিত মার্গ ‘পাতঞ্জল দর্শন’ নামে পরিচিত। পতঞ্জলির যোগশাস্ত্রের চারটি পাদ। প্রথম পাদে আলোচিত হয়েছে যোগের লক্ষণ ও সমাধি। দ্বিতীয় পাদে সমাধি লাভের পূর্বে অনুসরণীয় ব্যবহারিক যোগ এবং যম, নিয়ম, আসন ইত্যাদি যোগাঙ্গের কথা আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় পাদে ধারণা, ধ্যান, সমাধি ও এসবের ফল এবং বিভূতি বা ঐশ্বর্য আলোচিত হয়েছে। চতুর্থ পাদে পাঁচ প্রকার সিদ্ধি ও পরা প্রয়োজন কৈবল্যের আলোচনা করা হয়েছে।     


পুরাণ মতে, পতঞ্জলির জন্মবৃত্তান্ত সম্পর্কে জানা যায়- এক সময় সমস্ত মুনি-ঋষিরা ভগবান বিষ্ণুর কাছে উপস্থিত হন। তাঁরা সমবেতভাবে বিষ্ণুর কাছে জানতে চান ধন্বন্তরী আয়ুর্বেদের মাধ্যমে অসুখ নিরাময়ের উপায় দিয়েছেন। তবুও মানুষ যদি অসুস্থ হয়, তখন কি করা উচিত? শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, কখনও কখনও ক্রোধ, লালসা, লোভ, ঈর্ষা ইত্যাদি থেকে উৎপন্ন মানসিক আবেগজনিত অসুস্থতাও নিরাময়েরও প্রয়োজন হয়। 


এই সব অশুদ্ধি থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে? ঋষিরা যখন তাঁর কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন তখন তিনি আদিশেষকে (সচেতনতার প্রতীক) তাঁদের কাছে পাঠান। যিনি পৃথিবীতে ‘মহর্ষি পতঞ্জলি’ হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এইভাবে পতঞ্জলি পৃথিবীতে আসেন যোগের জ্ঞান দান করার জন্য। এইজ্ঞানই ‘যোগসূত্র’ নামে পরিচিত।  জানা যায়, পতঞ্জলি বলেন ১০০০ মানুষ একত্রিত না হলে তিনি ‘যোগসূত্র’ আলোচনা করবেন না। সুতরাং সহস্র মানুষ তাঁর জ্ঞান শোনার জন্য বিন্ধ্য পর্বতমালার দক্ষিণ দিকে একত্রিত হলেন। পতঞ্জলির আরেকটি শর্ত ছিল, তাঁর ছাত্রদের ও তাঁর মধ্যে তিনি একটি পর্দা রাখতে হবে। ছাত্রদের কেউ সেই পর্দা তুলতে পারবে না। তিনি যতক্ষণ না জ্ঞান দান শেষ করছেন, সবাইকে কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।  পতঞ্জলির সংঞ্জানুসারে ‘যোগ’ মানে হল মনের পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করা। বিভিন্ন ধরণের যোগ থাকলেও, প্রত্যেক ধরণের যোগের উদ্দেশ্যই হল মনকে নিয়ন্ত্রণ বা বশ করা। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.