মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ ব্যক্তিকে সুস্থ্য করে তুলল বারাসতের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা - The News Lion

মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ ব্যক্তিকে সুস্থ্য করে তুলল বারাসতের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা

 


দি নিউজ লায়ন;  বয়সটা তার ৩১ হলেও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারনে তাকে দেখে মনে হয় ১৪,১৫ বছরের ছেলে।নাম সাদিক আনোয়ার। গত ১১ বছর ধরে নিউটাউনের বোধনা হোমেই রয়েছেন সে।কিন্তু গত ৫ বছর ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ সাদিক রেক্টাল প্রোলাপস অসুখে ভুগছিলেন।তার মলদ্বারটা শরীরে বাইরে বের হয়ে যেত। হোম কতৃপক্ষ কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও অস্ত্রপ্রচার করে স্থায়ী  সমাধান করতে পারেন নি। শেষে   ৫ বছর ধরে  মলদ্বারের রোগের ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রপ্রচার করে মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ সাদিক আনোয়ারকে সুস্থ্য করে তুলল বারাসতের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা।সোমবার ছুটি হওয়ার পর বারাসত হাসপাতাল কতৃপক্ষ সাদিককে তুলে দিয়েছেন নিউটাউন বোধনা হোম কতৃপক্ষের হাতে। 


 হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে রেক্টাল প্রোলাপসে আক্রান্ত মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ সাদিকের চিকিৎসার চেষ্টা করেছিলেন হোম কতৃপক্ষ। অস্ত্রপ্রচারই একমাত্র সমাধান।কিন্তু৷ কোভিডের এই পরিস্থিতির মধ্যেও হোম কতৃপক্ষ কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও সাদিকের অস্ত্রপ্রচার করাতে পারেন নি।অস্ত্রপ্রচারে যথেষ্ট ঝুকিও ছিল।সাদিকের মানসিক সমস্যার কারনে একবার অপারেশন টেবিল থেকে উঠে এসেছিলেন সাদিক। ফলে মলদ্বারের এই সমস্যা নিয়ে যন্ত্রনায় ভুগছিলেন সাদিক।শেষে নিউটাউনের বোধনা হোম কতৃপক্ষ যোগাযোগ করেন বারাসত হাসপাতাল কতৃপক্ষের সাথে। গত ১৫ জুন বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সাদিককে।


হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রপ্রচারের জন্য চার জন চিকিৎসককে নিয়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল।এই টিমে ছিলেন হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক রবীন মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও ছিলেন একজন করে সাইক্রিয়াটিস্ট,এনেসথেটিক এবং একজন শল্য চিকিৎসক। হাসপাতালের সুপার সুব্রত মন্ডল রোগীর বন্ডে সই করে ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রপ্রচারের সম্মতি দেন।গত শনিবার বারাসত হাসপাতালেই মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ সাদিক আনোয়ারের অস্ত্রপচার হয়।সফল অস্ত্রপচারে সুস্থ্য হয়ে ওঠেন সাদিক।এদিন তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।নিউটাউন বোধনা হোমের সুপার সুব্রত সরকার এদিনই সাদিককে হাসপাতাল থেকে হোমে নিয়ে গিয়েছেন।


এই বিষয়ে বারাসত হাসপাতালের সুপার সুব্রত মন্ডল বলেন সাদিকের মলদ্বারটা শরীরের বাইরে বের হয়ে যেত। গত ৫ বছর ধরে এই যন্ত্রনা নিয়েই ছিলেন তিনি।এই ধরনের চিকিৎসায় সাধারনত রেফার করাটাই দস্তুর।কিন্তু মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ সাদিকের যন্ত্রনা এবং কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই তাকে রেফার না করেই ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রপ্রচারের সিদ্ধান্ত নিই।একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে এনেস্থেসিয়া করাটাও সমস্যা ছিল।তবুও হাসপাতালের চার চিকিৎসকের চেষ্টায় অস্ত্রপ্রচার সফল হয়েছে।সাদিককে সুস্থ্য অবস্থায় হোম কতৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।হাসপাতালের চিকিৎসক রবীন মুখোপাধ্যায় বলেন এই ধরনের অস্ত্রপচারে সব সময় ঝুকি থাকে।সফল ভাবে অস্ত্রপ্রচারে সাদিক সুস্থ্য হয়েছেন।চিকিৎসক হিসেবে এটাই প্রাপ্তি।

নিউটাউন বোধনা হোমের সুপার সুব্রত সরকার বলেন আমরা সাদিকের অস্ত্রপ্রচারের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি।কিন্তু সম্ভব হয় নি।শেষে বারাসত হাসপাতালের চিকিৎসকরা ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রপ্রচার করে মানসিক প্রতিবন্ধী অনাথ সাদিককে সুস্থ্য করে তুলেছেন।এর জন্য হাসপাতালের সুপার এবং চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাই।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.