পারিবারিক অশান্তিতে আটকে রাখা কয়েক জনকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের সাথে ব্যাপক ঝামেলা
দি নিউজ লায়ন; বুধবার অশোকনগরের গিলাপোল এলাকায় পারিবারিক অশান্তিতে আটকে রাখা কয়েক জনকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের সাথে ব্যাপক ঝামেলায়। অভিযোগ পুলিশ গ্রামের এক মহিলাকে মারধর করেছে।এরপরেই উত্তেজিত এলাকার মানুষ পুলিশকে লক্ষ করে ইট, পাটকেল ছোড়ে।পুলিশের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।পাল্টা পুলিশও লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ।
গ্রামের এক মহিলা সহ দুই জন জখম হয়েছেন।তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে।যদিও অশোকনগর থানার পুলিশ মারধরের কথা অস্বীকার করেছে।ঘটনার পরে গৃহবধুর বাপের বাড়ির লোকজন অশোকনগর থানায় লিখিত একটা অভিযোগ দায়ের করেছেন।সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় স্বতপ্রোনদিত হয়ে একটা মামলা রুজু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ।গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
স্থানীয় এবং পুলিশ সুত্রে জানা গেছে অশোকনগর থানার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গিলাপোলের বাসিন্দা সোমনাথ মন্ডলের সাথে বিয়ে হয়েছিল হরিনঘাটার বৈশাখী মন্ডলের। সম্প্রতি ঐ গৃহবধূ হরিনঘাটায় তার বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন।শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের অভিযোগ সোনার গহনা সহ নগদ কয়েক হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছে সে।এই নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক অশান্তির সুত্রপাত।বিষয়টির মিমাংসার জন্য গৃহবধূর বাপের বাড়ির কয়েক জন এসেছিলেন অশোকনগর গিলাপোলের শ্বশুরবাড়িতে।
পুলিশ জানিয়েছে দুই পক্ষের আলোচনার পরেও মিমাংসা কিছুই হয় নি। বরং গৃহবধুর বাপের বাড়ির কয়েক জনকে আটকে রাখা হয়েছে।বুধবার আটক কয়েক জনকে উদ্ধার করতে বুধবার গিলাপোলে গিয়েছিল অশোকনগর থানার পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে গৃহবধূর বাপের বাড়ির তিন জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় এলাকার লোকজন বাধা দেয়।পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকে। ইটের আঘাতে পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে গিয়েছে।পুলিশের তাড়ায় পরে গিয়ে কয়েক জন জখম হয়েছে।গ্রামের কাউকেই মারধর করা হয় নি।পুলিশের এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ গিলাপোলের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ গ্রামের যে বাড়িতে বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পারিবারিক অশান্তি হয়েছে,পুলিশ প্রথমে সেখানে না গিয়ে মামনি মন্ডল নামে এক গৃহবধূর ঘরে ভাঙচুর করে।তাকে মারধর করেছে। পুলিশের মারধরে জখম হয়েছেন মামনি মন্ডল। দিপংকর সরদার নামে গ্রামের আরও একজন জখম হয়েছেন।তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। জখম গৃহবধূর স্বামী তপন কুমার মন্ডল বলেন পাশের বাড়ির অশান্তির বিষয় আমরা কিছুই জানি না।অথচ অশোকনগর থানার পুলিশ আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে।
অশোকনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে গ্রামের কাউকেই মারধর করা হয় নি।আটক ব্যাক্তিদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করেই ইট ছোড়া হয়।পুলিশের তাড়ায় পালাতে গিয়ে কয়েক জন পড়ে গিয়ে জখম হয়েছেন।

Post a Comment