জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় এখনো মৃত্যুর শংসাপত্র পাননি ২৩ জন, চলছে আদালতে মামলা
দি নিউজ লায়ন; কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানা এলাকার সুরেন্দ্র সিং টানা ১০ বছর ধরে ঘুরছেন স্ত্রী ও ছেলের মৃতদেহ এবং ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য। হাওড়ার যুথিকা আটা স্বামীর মৃতদেহ ও ডেথ সার্টিফিকেট এর জন্য ঘুরেছেন । এরকম ২৩ জনের বাড়ির লোক তাঁদের স্বজনদের হারিয়েছেন জ্ঞানেশ্বরী ট্রেন দুর্ঘটনায়। তাঁদের পক্ষে আদালতে মামলা লড়ছেন আইনজীবী তীর্থঙ্কর ভকত।
জাল ডিএনএ সার্টিফিকেট দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ ও চাকরি পাওয়ার ঘটনায় সিবিআই এর জালে দুজন ধরা পড়তেই আশার আলো দেখছেন এই পরিবার গুলি। ২০১০ এর ২৮ মে ঝাড়গ্রামের সরডিহার কাছে রাজাবাঁধ এলাকায় দুষ্কৃতীরা রেল লাইনের প্যানড্রল ক্লিপ ও ফিসপ্লেট খুলে দেওয়ায় আপ হাওড়া - মুম্বাই জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস ডাউন লাইনের দিকে কাত হয়ে যায়। এসময় ডাউন লাইনে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা মালগাড়ি একে পেট ফুঁড়ে গিয়ে এর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যার ফলে ওই ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মারা যান ১৪৯ জন । ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তখনকার রেলমন্ত্রী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । সিবিআই ওই মামলার তদন্ত শুরু করে । গ্রেপ্তার করা হয় ২০ জনকে। এর মধ্যে ২ জন জামিন পেয়েছে। বাকিরা জেলবন্দি। সিবিআই এর পেশ করা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি ও মাওবাদীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
মেদিনীপুর জেলা আদালতের রি ডেজিগনেটেড আদালতে ( আর ডি কোর্ট) এই মামলা চলছে। মোট ২২৫ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৮৭ জনের স্বাক্ষগ্রহন হয়েছে। আইনজীবী তীর্থঙ্কর ভকত জানান , ট্রেন দুর্ঘটনায় সুরেন্দ্র সিং এর স্ত্রী নীলিমা ও ছেলে রোহিত মারা যান। যুথিকা আটার স্বামী প্রসেনজিৎ আটা মারা যান। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাঁরা বেশ কয়েকবার নমুনা দিয়েছেন । তবু মৃতদেহ বা ডেথ সার্টিফিকেট কোনোটাই পাননি। এরফলে চাকরি বা মৃত্যুকালীন সুযোগ সুবিধা কিছুই পাননি।
যদিও তাঁরা রেল ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ করে ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন , এই ২৩ জনের মৃতদেহ কি অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে ? তাঁরাই সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। লক ডাউনের পর আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হলে এই মামলায় তিনি এসব নথি জমা দেবেন বলে জানান।

Post a Comment