বিক্রি বেড়েছে মালদার আমসত্ত্বের - The News Lion

বিক্রি বেড়েছে মালদার আমসত্ত্বের

 


দি নিউজ লায়ন;   স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিক্রি বেড়েছে মালদার আমসত্ত্বের । তাই করোনা পরিস্থিতি মধ্যে লকডাউন চললেও এখন মালদার আমসত্ত্ব প্রস্তুতকারকদের বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই। রাতদিন এক করে চলছে আমসত্ত্ব তৈরির কাজ। তবে মেঘলা আবহাওয়ায় কিছুটা হলেও আমসত্ত্ব প্রস্তুতকারকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। কারণ, আমসত্ত্ব তৈরি করার পর বেতের জালির মাধ্যমে সেটি রোদে শুকাতে দেওয়া হয়।


 কাঠফাটা রোদে মূলত আমসত্ত্ব ভালোমতো শুকিয়ে গেলে, সেটি প্রক্রিয়াকরণে ক্ষেত্রে খুব সুবিধা হয় প্রস্তুতকারকদের। কিন্তু কয়েকদিন ধরে মেঘলা আবহাওয়া এবং মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হওয়াতে খানিকটা হলেও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে আমসত্ত্ব প্রস্তুতকারকদের। কিন্তু তারপরেও যতটা অনুকূল আবহাওয়া পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যেই আমসত্ত্ব শুকানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রস্তুতকারকেরা। পরবর্তীতে সেই আমসত্ত্ব গুলোই বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মাধ্যমেই বিক্রি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য , মালদা জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি আমসত্ত্ব তৈরি হয়ে থাকে ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদা ব্লকে। ইংরেজবাজার ব্লকের কোতুয়ালি এলাকায় প্রায় ৫০ টি পরিবার আমসত্ত্ব তৈরি সাথে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি পুরাতন মালদা ব্লকের একইভাবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টি পরিবার আমসত্ত্ব তৈরি করে থাকে। এছাড়াও মানিকচক, রতুয়া, চাচোল এবং কালিয়াচক ব্লকেও বেশকিছু এলাকাতেও আমসত্ত্ব তৈরি করেন বাড়ির মহিলারা। আর সেটী পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।


 বিগত দিনে পাইকারদের বায়না পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে হতো আমসত্ত্ব প্রস্তুতকারকদের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমসত্ত্ব আগে ভাগেই নিয়ে ফেলেছেন বিভিন্ন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি । পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমেই জেলার বিভিন্ন জেলা এবং রাজ্যে মালদার আমসত্ত্ব রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে করে আমসত্ত্ব প্রস্তুতকারক এবং বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও আমসত্ত্বের  চাহিদা ব্যাপক থাকায় বায়নাও  মিলছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা।


ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি এলাকায় আমসত্ত্ব প্রস্তুতকারক মৌসুমী দাস, অনিমা মন্ডলদের বক্তব্য, গোপালভোগ জাতের আমের আমসত্ত্ব চাহিদা বেশি । কারণ এই আমের আমসত্ত্ব দীর্ঘদিন রেখে খাওয়া যায়। পাকা আমকে মূলত পেস্ট করে , তারপরে বেতের চালিতে বারবার লেয়ার দিয়েই প্রস্তুত করা হয় আমসত্ত্ব । কিন্তু চাহিদা থাকলেও কিছুটা মেঘলা আবহাওয়াতেই সমস্যা বাড়িয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতি চললেও আমসত্ত্বের বরাত মিলছে ৮০০ থেকে ১০০ টাকা কিলো দরে। প্রতি ৪০কিলো আমে আড়াই কিলো আমসত্ত্ব তৈরি হয় । কাজেই দামটা একটু বেশি পড়ে। রাজ্য সরকার যেভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলিকে আমসত্ত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগী করেছে, তাতেই এবার লাভের আশা বেশি করে দেখতে পাচ্ছি। 


মালদার একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী আনন্দময়ী মহিলা সংঘের সভাপতি জোগমায়া দাস বলেন , মালদার আম এবং আমসত্ত্বের চাহিদা বরাবরই রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এবং ভিন রাজ্যে আমসত্ত্ব রপ্তানি করা হয়ে থাকে। যারা আমসত্ত্ব বানিয়ে থাকেন তাদের কাছ থেকেই মূলত আমরা পাইকারি হিসাবে আমসত্ত্ব কিনে নি । এরপরই বাইরে ব্যবসায়ীদের সেগুলি বরাত পাওয়ার পর রপ্তানি করা হয়। মালদার আমসত্ত্বের ভালো চাহিদা রয়েছে। কাজেই করোনা সংক্রমনের মধ্যেও পুষ্টিকর এই খাদ্য বিক্রি হচ্ছে ভালো। 



কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.