কালিম্পঙে রেল ট্যানেলে ধসে আহত ও নিহত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দেবে এজেন্সি ও কেন্দ্র সরকার
দি নিউজ লায়ন; কালিম্পঙে রেল ট্যানেলে কাজ চলাকালীন ধসের কবলে মৃত্যু ভিনরাজ্যের দুই শ্রমিকের। আহত আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বন্ধ করে দেওয়া হলো সেবক রংপো রেল যোগাযোগের কাজ। মৃত দুই শ্রমিক ঝাড়খন্ডের নিবাসী নাম সালকু মুর্মু ও নরেশ সোরেন। আহতরা হলেন সুফল হেমব্রম, সুকেশ্বর সিং, অশোক সিং, কুন্দন সিং ঠাকুর দাস। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাত ১০.৩০নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সেবক রংপুর রেল পথে ট্যানেলের ভালুখোলা এলাকা বুমার দিয়ে খোদাই- ড্রিলিংয়ের কাজ চলছিল। সেসময়ই লাগাতার শিলিগুড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিরপাতের জেরে পাহাড় ধস নামে। টানেলের মুখে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে বিশাল পাথরের চাই ও কর্দমাক্ত মাটি। সেসময় টানেলের ভেতরেই কাজে নিযুক্ত ছিলেন সাতজন শ্রমিক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুজনের। ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ।
আরও পাঁচজনকে কোনোক্রমে বাইরে বের করে আনা হয়। ধসে চাপা পড়ে যাওয়া দুই শ্রমিককে কালিম্পঙ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এলাকার স্থানীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে কাজ চলাকালীন টানেলে একটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পান তারা। এরপরই এই ঘটনা। অন্যদিকে রেলের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন কিভাবে পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টিতে ধসের সম্ভাবনা থাকার পরও রেলের তরফে বিপদজনক ভাবে কাজে লাগানো হলো শ্রমিকদের? বর্ষাকালীন মরশুমে পাহাড়ে ধস ফি বছরের ঘটনা। প্রকৃতির বৈচিত্র্যের কাছে অসহায় প্রশাসন। তারপরও টানা বৃষ্টির সময়তে প্রকৃতির বিপরীতে গিয়ে পাহাড়ের পাথর ফুটো করে ড্রিলিংয়ের কাজ চলছিল কিভাবে তা নিয়ে সরাসরি কাঠগড়ায় রেল কর্তৃপক্ষ। মিলছে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। কিভাবে চরম জীবন সংকটের মুখে ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের ঠেলে দিয়ে কাজে লাগানো হলো রেলের ইরকন প্রজেক্টে। টানেলের কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তার নিয়ে বিন্দুমাত্র দায়িত্বটুকু দেখায়নি রেল।
উল্লেখ্য সেবক রংপুর এই রেল প্রজেক্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০০৯সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রী থাকাকালীন পৃথকভাবে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে এই প্রজেক্টটি পাশ করে।সেবক রংপুর এই রেল প্রজেক্টের জন্য কোনো বাজেট ধার্য্য ছিলনা। তবে সেসময় তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকল্পবাবদ ১৩৬৫ কোটি টাকার বাজেট পাশ করেন। এদিন ঘটনার বিষয়ে শিলিগুড়ির পুরপ্রশাসক গৌতম দেব বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেল মন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্পটি নিয়েছিলেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেখানে শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি রেলের তরফে সুনিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। মৃত শ্রমিক পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। আশা করছি রেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেবে নিহত ও আহত শ্রমিক পরিবারকে। ক্ষতিপূরনের দাবি তোলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। এদিকে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আইরকন প্রজেক্ট ডিরেক্টর শ্রী মহিন্দর সিং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।এজেন্সি ও কেন্দ্র সরকারের তরফে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করা হবে। নিহত পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রাখা হবে।

Post a Comment