মা ক্যান্টিনের আওতায় শিলিগুড়িতে কয়েক হাজার মানুষের জনআহারের পরিকল্পনা - The News Lion

মা ক্যান্টিনের আওতায় শিলিগুড়িতে কয়েক হাজার মানুষের জনআহারের পরিকল্পনা

 


 দি নিউজ লায়ন;  মা ক্যান্টিনের আওতায় শিলিগুড়িতে কয়েক হাজার মানুষের জনআহারের পরিকল্পনা । প্রকল্পের মাধ্যমে মিলছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কয়েকশো মহিলাদের কর্মসংস্থান। সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই শিলিগুড়ি নিউ জলপাইগুড়ি এলাকায় চালু হতে চলেছে শহরের ৫টাকায় ভরপেট আহারের বৃহত্তর মা ক্যান্টিন। বৃহত্তর এই ক্যান্টিনের কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। 


শিলিগুড়ি পুর এলাকার ২০০জন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা প্রকল্পের আওতায় ক্যান্টিনের রান্না থেকে কোটাবাটা, পরিবেশনের কাজের দায়িত্বে থাকবেন। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের তরফে স্বনির্ভরগোষ্টির মহিলাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাছাই করে তিনটি গোষ্টিকে এই ক্যান্টিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভরপেট ডিমভাত আহারের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের প্লেট প্রতি ১৫টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। এরমধ্যে ভর্তুকি হিসেবে ১০টাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দেবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মাধ্যমে রাজ্য সরকার।  


আর পাঁচ টাকা দেবে খাদ্যগ্রহীতা ব্যক্তি। খাবার খেতে আসা ব্যক্তিদের পাঁচ টাকার বিনিময়ে মিলবে ভরপেট ভাত,ডাল, ভাজা ও  ডিম কারি। কোভিডবিধি মেনে পাতায় খাবার পরিবেশন করা হবে ও প্রথম কয়েকদিন টোকেনের ব্যাবস্থা থাকবে। নিউ জলাপাইগুড়ি ট্রাক স্ট্যান্ড চত্বরে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের কথা ভেবে এই ক্যান্টিনটি চালু করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ইউপি দপ্তরের প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জানান ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৮নাম্বার ওয়ার্ডে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে একটি মা ক্যান্টিন চলছে।


 সেখানে দুটি স্বনির্ভর গোষ্টির মহিলারা কাজ করছে। বৃহত্তর আকারে ক্যান্টিনের জন্য নিউজলপাইগুড়ি এলাকাকে নির্বাচন করা হয়েছে। কারন কাছেই এনজেপি স্টেশন নিত্যদিন ট্রেন যাত্রী থেকে শুরু করে মালবহনকারী কুলি, টোটো অটো ট্রাক চালকদের বিশাল সংখ্যার মানুষের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। দুপুর একটা থেকে দুটো পর্যন্ত ক্যান্টিনে খাবার মিলবে। শিলিগুড়িতে আরও পাঁচটি মা ক্যান্টিন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রতি ক্যান্টিনের পরিচালনার ভার থাকবে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের ওপর। কার্যত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আরও কয়েকশো মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।


 এদিকে লাভের অংকটা খুবই কম বলে কিছুটা আফসোস থাকলেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জানাচ্ছেন লকডাউনের বাজারে তাদের হাতে তৈরি জিনিসপত্র বাজারজাত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যাতো রয়েছে সেখানে ক্যান্টিনের কাজ সুনিশ্চিত, এবং এর থেকে প্রাপ্য অর্থ তাদের সংসারের কাজে লাগবে। এই বিষয়ে পুর নিগমের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দায়িত্বে থাকা প্রশাসক বোর্ডের সদস্য অলক চক্রবর্তী জানান মা প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প এবং তার লক্ষ্য সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ যাতে কম দামে আহার পায়।


 একইসঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাজ সু নিশ্চিত করা প্রকল্পের লক্ষ্য। তিনি বলেন কোভিড কালে যখন তৃনমূলের ছেলেরা জায়গায় জায়গায় খাবার প্রদান করছে তখন আমরা বুঝতে পারছি অতিমারী সময় মানুষ কতটা অভাবের মধ্যে রয়েছে। তাই নিউ জলপাইগুড়িতে বৃহত্তর ক্যান্টিনটি চালু হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের ২১জুন তা উদ্ববোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। কোভিডবিধি মেনে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহার করতে হবে ক্যান্টিনের দায়িত্বে থাকা মহিলা ও গ্রাহকদের। পাশাপাশি পুরনিগমের তরফে শহরের পাঁচটি বোরো ভিত্তিক একটি করে মা ক্যান্টিন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.